Jack Canfield

আজ জ্যাক ক্যানফিল্ড এর বুক সাকসেস প্রিন্সিপালের থেকে কিছু সাকসেস সম্পর্কে বর্ণনা দেব এবং চারটি সুত্র তুলে ধরব যে সূত্রগুলি আপনি ফলো করলে আপনি সাকসেস সম্পর্কে অনেক কিছু তথ্য জানতে পারবেন এবং জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারবেন। 

প্রথমে আমাদের জানতে হবে যে লক্ষ্যের সংজ্ঞা কি? লক্ষ্য বলতে বুঝি সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু পাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাকেই লক্ষ্য বলে। আপনি যতক্ষণ না পর্যন্ত কোন কিছু সুনির্দিষ্ট পাওয়া সিদ্ধান্ত না গ্ৰহন করেন ততক্ষণ পর্যন্ত সেটা কল্পনা বা স্বপ্ন হয়েই রয়ে যাবে। মানুষ কল্পনা বা স্বপ্ন দেখতে ভয় করে না। কিন্তু লক্ষ্য নির্ধারণ করতে ভয় পায়। 

আমি আজ আপনাকে চারটি সুত্র বলতে চলেছি যেটি সাকসেস প্রিন্সিপাল বুক থেকে আমি সঞ্চয় করেছি। আপনি চাইলে এই বুক্স পড়ে নিতে পারেন। 

পৃথিবীতে প্রত্যেকটি মানুষ চায় সাফল্য, এই চাওয়া হতে পারে অল্প সময়ের বা সারা জীবনের জন্য। আমরা প্রতিটি মুহূর্তেই আমাদের নিজেদের সাফল্য কামনা করে থাকি। 

বোতলের ছিপি খোলার সময় আমাদের একটি লক্ষ্য থাকে সেই কাজে সফল হওয়া, কিছু খেতে বসার সময় লক্ষ্য থাকে খাওয়া টি সম্পূর্ণ শেষ করা, একটি মানুষ জীবনকে ততক্ষণ পর্যন্ত তার সফল জীবনে পরিবর্তিত করতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত তার লক্ষ্য পূরণ না হয়। অনেকে আবার সারা জীবন ধরে জীবনের লক্ষ্য খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু লক্ষ্যের হদিশ করতে পারে না। এর কারণ কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লক্ষ্য খুঁজে পাওয়াটাও একটা সহজ ব্যাপার নয়। তাই প্রথমে আমাদের লক্ষ্য খুঁজে বার করতে হবে।

লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারলেই সফলতার অর্ধেক অংশ আমরা খুঁজে বার করে ফেলতে পারব। ছোটবেলা থেকে ছোটখাটো সাফল্য প্রায় আমরা অর্জন করে থাকি প্রতিদিন। 

কিন্তু কিছু কিছু সাফল্য আছে যেগুলো অর্জন করতে গেলে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয় অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হয়।

আবার পথ খুঁজে পাওয়া গেলেও সেই পথে কিভাবে পাড়ি দিতে হবে সেগুলি অনেকেরই জানা থাকে না। আজ আমি আপনাকে চারটি টিপস বলব এই সাকসেস প্রিন্সিপাল বই থেকে বেছে নিয়ে যেগুলি ফলো করলে আপনি আপনার লক্ষ্য কে সঠিকভাবে বেছে নিতে পারবেন। 

১. নিজের 100 ভাগ দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিন। লেখক এই সূত্রে বর্ণনা করতে চেয়েছেন আমরা যতক্ষণ না পর্যন্ত নিজেদের দায়িত্ব নিজেরা নিজেদের কাঁধে নিতে পারছি ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা স্বনির্ভর হতে পারব না।

হয়তো আমাদের পরিবেশ বদলানোর ক্ষমতা নেই আমাদের বাতাসের গতিবেগ বা তার দিক বদলানোর ক্ষমতা নেই, কিন্তু নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাতো আমাদের মধ্যে রয়েছে, বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করে যে তারা একটি সুন্দর জীবন পাওয়ার যোগ্য। তারা এটাও অবিশ্বাস করে অসাধারণ জীবনে অন্য কেউ এসে তৈরি করে দেবে না সেটি তাকে নিজেকেই তৈরি করতে হবে। 

একটি ভালো চাকরি পাবে কারণ সে ভালো পড়াশোনা করেছে। ভালো ব্যবসা করবে কারণ সে ভালো পুঁজি জমা করেছে। অথবা ভালো পণ্য বা ভাল সেবা দান করছে। এটা সত্যি কেউ এসে তোমার জীবনটা ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দেবে না সেই জায়গাটা তোমার নিজেকে তৈরী করে নিতে হবে।

বেশিরভাগ মানুষ এইটা হবে যে যখন যার যেটা পাওয়ার সে তখন সেটা এমনিতেই পেয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে এই কথাটি ঠিক ? একদমই ঠিক নয়, লেখক বলেছেন মানুষের এই ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে প্রতিটা পদক্ষেপে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি। 

যে মানুষটি নিজের কাঁধে দায়িত্ব নেয় সে মানুষটি জানে যে কিভাবে সফল হতে হবে। আপনি যেভাবে কাজ করবেন যেভাবে নিজেকে চালনা করবেন আপনার ভবিষ্যৎ টি সেই ভাবেই চলবে। 

সৃষ্টিকর্তা আপনাকে স্বাধীন চিন্তা ভাবনা করার অধিকার দিয়েছেন যাতে আপনি নিজের জীবনের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

ভালো খারাপের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে পারেন। আর এই কথাটি মাথায় রেখে লেখক বলেন “যদি আপনি সত্যিই সফল হতে চান তাহলে আপনি আপনার জীবনের প্রত্যেকটি দায় ভার আপনি নিজের কাঁধে নিয়ে নিন, আপনাকে মেনে নিতে হবে যে আপনি যা করছেন আপনার জীবনে যা ঘটছে তার জন্য দায়ী আপনি।

আপনার দৈনন্দিন জীবন, আপনার স্বাস্থ্য, আপনার ফিটনেস, আপনার ক্যারিয়ার, সেবা, আবেগ সমস্ত কিছু আপনার ওপর নির্ভরশীল। 

আপনাকে টি মেনে নিতে হবে যা কিছু করছেন তার জন্য শুধুমাত্র দাই আপনি। আপনার জীবনের প্রত্যেকটি উপাদান প্রত্যেকটি অভিজ্ঞতা, আপনার সাথে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটি দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনার নিজের এটি আপনাকে মেনে নিতে হবে। যদি এই কথাটি আপনি মেনে নেন তাহলে আপনার সফলতা কিন্তু অনেকটাই আপনার কাছে চলে আসবে।

আমরা সত্যিকারের সমস্যাটা কেই সবসময় এড়িয়ে চলে যাই আর তার ফলে আমরা অনেক সমস্যার সৃষ্টি করি। আমরা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে আসল সমস্যা বাইরে নয় আমাদের ভেতরে, আমরা কখনও নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখি না যে আমাদের নিজেদের কোথায় কমতি রয়েছে, কোথায় প্রবলেম রয়েছে, কোথায় ভুল রয়েছে।

আমরা বেশিরভাগ সময় এমন মানুষের কাছে অভিযোগ করি যেখানে অভিযোগ করলে সে কোন মূল্যই আমাদের দেবেনা। যেমন যেমন অফিসে গেলে আমরা নিজেদের পরিবারের লোকের ব্যাপারে অভিযোগ করে এবং বাড়িতে ফিরলে সেখানে এসে আমরা অফিসের ব্যাপারে অভিযোগ করি, এর কারণ হলো একটাই যে কোন ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় আমরা অভিযোগ করে বেড়াই। কারণ মুখের ওপর অভিযোগ করতে বেশ বড় একটা সাহসের প্রয়োজন হয় আর প্রকৃত পক্ষে সেই সাহস আমরা অর্জন করতে পারিনা। 

যদি কখনো কোনো কারণে কারোর ওপর অপমানের অভিমান হয় তাহলে অন্য কাউকে বলার থেকে তাকে বলা বেশি ভালো। লেখক বলেছেন অভিযোগ না করে আমাদের সমস্যার দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত তাহলে আমরা নিজেরাই সমস্যার সমাধান করতে পারি।

এইভাবে নিজেদের সমস্যার সমাধান যদি আমরা নিজেরাই করতে থাকে তাহলে জীবনটা যে কত সুন্দর হয়ে উঠবে তা আপনি নিজেই দেখতে পাবেন। 

২. দ্বিতীয় সূত্রটি একটি অভাবনীয় সূত্রের কথা তিনি বলেছেন আপনার জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা আপনাকে রাখতে হবে। এখানে লেখক আপনার নিজের যোগ্যতা এবং নিজের চরিত্রের দিকে নজর দিতে বলেছেন। আমাদের জীবনে যা ঘটে প্রত্যেকটি বিষয়ে কিছু না কিছু উদ্দেশ্য নিয়ে ঘটে চলেছে আমাদের জীবনে এমন কিছু নেই যেটা উদ্দেশ্যবিহীন ঘটছে। পৃথিবীতে মানুষ জন্মলাভ করেছে কারণ সে এই দুনিয়াতে এমন কিছু করে যেতে চায় যাতে সবার কাছে সেই জিনিসের দাম থাকে নাম থাকে, জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো আমাদের এই কথাটি মেনে নেওয়া। 

গভীর পর্যবেক্ষণে চিন্তার মাধ্যমে সফল মানুষেরা সেইসব প্রতিভা যোগ্যতাকে সঠিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। আর তাই তারা জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কোন জিনিসটা করতে হবে একজন মানুষকে তার সেটা বোঝা প্রয়োজন। তার নিজের স্বার্থ দ্রব্য তৈরি করার জন্য কোন জিনিসটা তার কম্ফোর্টেবল সেটাকে নিজে থেকেই খুজে বার করতে হবে। যারা জীবনে সফল হয়েছেন তারা আসলে জীবনে সঠিক উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছেন তাই তারা জীবনে সফল হয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ সত্যি কথা যেটি লেখক তার লেখনি ধারায় পরিস্ফুট করেছিলেন আমাদের সামনে , আমাদের জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কি খুঁজে বের করার জন্য। 

৩. তৃতীয়ত আপনি জীবন থেকে কি চান সেই বিষয়ে ভালোভাবে সিদ্ধান্ত নিন, আপনি আপনার জীবনের উদ্দেশ্য কিভাবে পূরণ করতে চান। আশায় উদ্দেশ্য পূরণের জন্য আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান সেই নিয়ে একটি পরিকল্পনা বানান, সেই নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। কি পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক আপনি হতে চান ? কতটা খ্যাতি আপনি চান ? মানুষের জন্য আপনি কি করতে চান? পরিবারের জন্য আপনি কি করতে চান? কি নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান? এই সবকিছু নিয়ে আপনি একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। আপনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে আপনার সফলতা যে যত ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তত ভাল সফলতা সে পাবে। 

চতুর্থত যেটি সেটি হল মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা আমি প্রথমেই আপনাকে বললাম যে এত কিছু জানা সত্ত্বেও অনেকেই সফল হয় না। এর কারণ হলো সেই ব্যাপার গুলো কি কাজে লাগিয়ে ঠিক করতে হবে যে সে কি চায়। একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে এবং আকাঙ্ক্ষা গুলি কে সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। 

যে মানুষ জীবনে যা চায় তা না পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো বিশ্বাসের অভাব। বলতে গেলে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ছোট বড় স্বপ্ন দেখে, কিন্তু নিজের ওপর বিশ্বাস না থাকার জন্য সেই স্বপ্নগুলি ছোটতেই মারা যায়। লেখক এই ব্যাপারটি বোঝাতে গিয়ে “ থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ” বইয়ের লেখক নেপোলিয়নের একটি উক্তি তুলে ধরেছিলেন মানুষের মন যা ভাবতে পারে যা বিশ্বাস করতে পারে তাই সে অর্জন করতে পারে। অর্থাৎ আপনার ভাবনাটাই বড় কথা আর কিছু বড় কথা নয়। 

লেখকের আরো বলে যে মানুষের মন এতটাই শক্তিশালী যে কোন কিছুর দৃঢ়ভাবে কামনা করলে তা সে অর্জন করবে করবে পৃথিবীর কোনো শক্তি তাকে বাধা দিতে পারবে না। একটি লক্ষ্যের শেষ ধাপ হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে আপনি যা চান তা অবশ্যই পাবেন এই বিশ্বাস মনের মধ্যে নিয়ে আসলে আপনাকে কখনো কেউ আপনার লক্ষ্য থেকে সরাতে পারবে না।

 আশাকরি আপনার জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য এই চারটি পয়েন্টের অনেকটাই সাহায্য করবে , আপনার নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন এবং লক্ষ্যে পৌঁছে যান। 


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *