স্বপ্ন দেখতে শিখুন

তুমি ভাবছো তোমার জীবনের লক্ষ্য হয়তো সুনির্দিষ্ট করা আছে তাইতো আমাদের মধ্যে অনেকেরই জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে রাখা আছে। সেটা খুব অল্প সময়ের জন্য হতে পারে বা খুব দীর্ঘ সময়ের জন্যও হতে পারে। এই নিয়েই আজকে আমি আপনাদের কিছু বলবো এবং আমার কথাগুলো যদি মন দিয়ে শোনেন তাহলে আপনাদের নিজেদের জীবনের প্রতি ধারণা অনেকটাই বদলে যাবে। 

আমরা নিজেদেরকে কোথায় দেখতে চাই বা কি করলে আমরা নিজেদেরকে সেই জায়গায় দেখতে পাবো তার একটা তালিকা বানিয়ে নেওয়া দরকার। তুমি কি কখনো তোমার লক্ষ্য নিয়ে বিবেচনা করে দেখেছ? তুমি কি কখনো তোমার লক্ষ্য নিয়ে বিবেচনা করে দেখেছো যে বর্তমানে এই মডার্ন সোসাইটিতে, এই মর্ডান সিভিলাইজেশনে আমরা যে লক্ষ্যগুলো নির্বাচন করি তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাকে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া, এগুলো দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্য গুলিকে নির্ধারণ করি। কিন্তু আমরা আমাদের প্রকৃত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারি কি? এই বিষয়ে একটা কথা বলে থাকি সোশ্যাল মিডিয়া পরিবার রাষ্ট্র সমাজ এর বাইরে কিন্তু একটা লক্ষ্য থাকে। সেটা হলো ইচ্ছা। তবে তার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত নিজের উপলব্ধি করা উচিত।

মনের অন্তঃস্থল থেকে একটা উত্তরের অপেক্ষা করা উচিত। সেই পথ কখনও বি ফলে যায় না সেই পথে গেলে মানুষ কখনো হারে না। সেখান থেকে যা শক্তি পাওয়া যায় হেরে গেল বারবার উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা থাকে। আজকালকার মানুষ মানুষকে বিচার করে দুটো জিনিস মিলিয়ে :- ১. তার কতগুলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং সেই ব্যাংক একাউন্টে তার কত টাকা রয়েছে। 

২. সে কোন পরিচয় বহন করে তার নামের আগে কোন খ্যাতি বা উপাধি বা অন্য কোনো পরিচয় পত্র রয়েছে কিনা। কিন্তু এর বাইরেও একটা মানুষকে চেনা যায় সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে অসাধারণ জীবন যাপন করার প্রণালী অনেক রয়েছে। যা জীবনকে সুখী আনন্দিত এবং সাফল্য মূল্য করে তুলতে পারে। তো আজ আমি আপনাকে সেই সমস্ত বিষয়ে কিছু জানাব। 

প্রথমে যে বিষয়টির ওপর জোর দিতে হবে সেটি হলো বিশ্বাস। যে কাজই করো না কেন আমাদের সর্বপ্রথম বিশ্বাস এবং ভরসা থাকা চাই। বিশ্বাস এবং ভরসা যদি না থাকে কোন কাজই সম্ভব নয়। বাইবেলে একটি কথা রয়েছে যে বিশ্বাস পাহাড় কেও টলাতে পারে। বিশ্বাসী তোমাকে নিশ্চিত করতে পারে এবং বিশ্বাসী তোমার মধ্যে মোটিভেশন প্রদান করতে পারে। যদি তুমি নিজের মধ্যে বিশ্বাস রাখ তাহলে একদিন তুমি অবশ্যই তোমার গন্তব্যে পৌঁছাবেই পৌঁছাবে।

দ্বিতীয় যে বিষয়টির কথা বলব সেটি হল স্বপ্ন। স্বপ্ন তো আমরা সবাই দেখে কিন্তু দিনের শেষে আমাদের অধিকাংশ স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। যে স্বপ্নগুলো আমরা পূরণ করতে পারি না। ফলে স্বপ্ন দেখাই ছেড়ে দেয়। কিন্তু কেন স্বপ্ন দেখা কি পাপ স্বপ্ন কি ভাগ্যে রূপান্তরিত হয় না? হয় বন্ধু হয় । যেকোনো আবিষ্কারের সূত্রপাত রয়েছে, আর সেই সমস্ত আবিষ্কারের সূত্রপাত হয় স্বপ্ন থেকে, মহান মানুষের আগে স্বপ্ন দেখতেন তারপর তাকে বাস্তবে রূপ দিতে।

Wright Brother স্বপ্ন দেখেছিলেন যে তারা এক যন্ত্র আবিষ্কার করবে যে যন্ত্র আকাশে উড়বে। সেটারই বাস্তব রূপ হল আজকের প্লেন যা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষজনদের পৌঁছে দিচ্ছে। সভ্যতার চেহারাটাই পরিবর্তন হয়েছে শুধুমাত্র স্বপ্নের ফলে। তাইতো স্বপ্ন দেখা প্রয়োজন আর স্বপ্নকে রূপান্তরিত করার জন্য চেষ্টা থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। 

নিজের লক্ষ্য বানাও, নিয়মিত শ্রম দাও পরিশ্রম করো সময় দাও সাফল্য আসবেই আসবে। এপিজি আব্দুল কালাম বলেছিলেন স্বপ্ন সেটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখো স্বপ্ন সেটা যার তারনা তোমায় ঘুমোতে দেয় না।

 যদি তুমি জীবনে সফল হতে চাও তাহলে ভবিষ্যৎ নয় বর্তমানকে মেনে নিতে সেখো। বেশিরভাগ মানুষ সময়ের গণ্ডিতে আটকে যায়। হয় তারা অতীত নিয়ে চিন্তা করে নয়তো তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করে। আর আমরা এই সবের মধ্যে সব থেকে মূল্যবান জিনিস আমাদের এই বর্তমানটাকে নষ্ট করে ফেলি।

কিন্তু যারা বুদ্ধিমান তারা কখনোই ভবিষ্যতের উপরে নির্ভর করে থাকে না। অতীতের কাল গহরে নিজেকে নিয়োজিত করে না। তোমার বর্তমান দেখা খুব জরুরী তুমি পারবে আর বর্তমান দেখলেইতো ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর করতে পারবে। 

যদি ভবিষ্যতে সুন্দর করতে চাও যদি আগামীকাল গুলিকে সুন্দর করতে চাও তাহলে বর্তমানের ওপর গুরুত্ব দাও।

এরপর যদি বলব সেটি হলো নিজেকে সমস্যার সমাধান কল্পে ব্যবহার করুন। সমস্যা থেকে পালিয়ে গিয়ে কখনো তার সমাধান করা যায়নি অতীত সাক্ষী রয়েছে , আপনি যত সমস্যা থেকে পালাবেন সমস্যা তত আপনার সাথে সাথে পালাবে কিন্তু আপনি যদি সেখানে থেমে সে সমস্যাটার সমাধান করেন তাহলে আপনার সফলতার প্রতি আরও মসৃণ হবে। 

এরপর যেটা বলবো সেটি হল অভ্যাস যদি তোমার জীবনের সমস্ত কিছুকে তুমি পরিবর্তন করতে চাও তাহলে সবার প্রথমে তোমার নিজের অভ্যাসটা পরিবর্তন করতে হবে। 

আপনার নিজের যে অভ্যাসগুলো রয়েছে সেই অভ্যাসগুলো কে একটি খাতায় লিখুন এবং তার মধ্যে থেকে যেগুলি বদভ্যাস সেগুলিকে বাদ দিয়ে দিন সেগুলিকে পরিবর্তন করে নিন।এবং যেগুলি ভালো অভ্যাস যে অভ্যাস গুলো করলে তুমি জীবনের পথে আরও উন্নতি করতে পারবে এবং এগিয়ে যেতে পারবে সেই অভ্যাস গুলিকে প্রতিদিন করো।

এই পাঁচটি রুলস যদি আপনি ফলো করেন তাহলে আপনি আপনার জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন এবং নিজের সাফল্যে পৌঁছাতে পারবেন। 


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *