জীবনে বেঁচে থাকতে আপনাকে এগুলি মেনে চলতে হবে !!!

ওঠো, সাহসী হও, বীর্যবান হও, সব দায়িত্ব নিজের ওপর গ্রহণ করো, জেনে রাখো তুমি অদৃষ্টের সৃষ্টিকর্তা। তুমি যে সত্যি আর সহায়তা চাও, সেটা তোমার মধ্যেই রয়েছে। পরম পুরুষ শ্রী রামকৃষ্ণের শ্রেষ্ঠ ছাত্র উনবিংশ শতাব্দীর প্রসিদ্ধ সংস্কারক তারুণ্যের পূজারী স্বামী বিবেকানন্দের কিছু বাণী আজ আমি আপনাদের জানাব। 

আমি এখনো কিছু করিতে পারি নাই তোমাদিগে সব করিতে হইবে, যদি কাল তোমার দেহত্যাগ হয়, আমার দৃঢ় বিশ্বাস জনসাধারণের মধ্যে সশস্ত্র ব্যক্তি আসিয়া ওই ব্রত গ্রহণ করিবে। আর এই কার্যের এতদূর উন্নতি আর বিস্তার হইবে তা আমি কখনো কল্পনা করি নাই।

আমার দেশের ওপর আমি বিশ্বাস করি, বিশেষত আমার দেশের যুবকদের উপর। 

“হে আমার যুবক বন্ধুগণ তোমরা সবল হও, তোমাদের নিকটে ইহাই আমার একমাত্র বক্তব্য, গীতা পাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেললে তোমার স্বর্গে যাওয়া আরও নিকটবর্তী হইবে”। 

আমাকে অতি সাহস পূর্বক এই কথাগুলি বলিতে হইতেছে, কিন্তু না বললেই নয়। আমি তোমাদিগকে ভালোবাসি, আমি জানি পায়ে কোথায় কাঁটা বিঁধেতেছে। আমার কিছু অভিজ্ঞতা আছে তোমাদের কে বলি। তোমাদের শরীর একটু শক্ত হইলে তোমরা গীতা আরো ভালো বুঝবে। 

যদি তুমি পবিত্র হও, যদি তুমি বল বান হও, তাহলে তুমি একাই সমগ্র জগতের সমকক্ষ হইতে পারিবে। দুর্ভেদ্য তমসাবরন এখন সকলকেই সমানভাবে আচ্ছন্ন করিয়াছে। এখন তেষ্টায় জোর নেই, উদ্যোগে সাহস নাই, মনে বল নাই, অপমানে ঘৃণা নাই, দাসত্বে অরুচি নাই, হৃদয়ে প্রীতি নাই, প্রাণে আশা নাই, আছে প্রবল ঈর্ষা, জাতিবিদ্বেষ, আছে দুর্বলকে যেনতেন প্রকারে সর্বনাশ সাধনে একান্ত ইচ্ছা আর বলবান কুকুরবতের পদলেহন।

এখন তৃপ্তি ঐশ্বর্য প্রদর্শনে, ভক্তি স্বার্থ সাধনে, জ্ঞান অনিত্য বস্তু সংগ্রহে, যোগ পৈশাচিক আহারে, কর্ম পরের দাসত্বে, সভ্যতা বিজাতীয় অনুকরণে, বাগ্মীত্ব কটু ভাষণে, ভাষার উৎকর্ষ ধনীদের ও তদদ্ভুত চাটু পাদে, জঘন্য অশ্লীলতা বিকিরনে। সবচেয়ে বড় ধর্ম হল নিজের স্বভাবের প্রতি সত্য থাকা, নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা। 

যদি কোনদিনও তোমার সামান্য কোন সমস্যা না আসে, সেইদিন নিশ্চিত তুমি কোন না কোন ভুল পথে হেঁটেছো। সবচেয়ে বড় ধর্ম হল নিজের স্বভাবের প্রতি সত্য থাকা। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা আর কিছু দরকার নেই, শুধু দরকার প্রেম ভালোবাসা আর সহিষ্ণুতা। জীবনের অর্থ বিস্তার আর বিস্তার। প্রেম একই কথা সুতরাং প্রেমই জীবন, এটাই জীবনের একমাত্র গতি। 

কি সামাজিক, কি রাজনৈতিক, কি আধ্যাত্বিক, সবক্ষেত্রে যথার্থ কল্যাণের ভিত্তি একটাই আছে, সেটি আমি আর আমার ভাই এক। এই কথাটি সব দেশের সব জাতির পক্ষে সমানভাবে সত্য। চোখ আমাদের পেছনের দিকে নয় সামনের দিকে। অতএব সামনের দিকে অগ্রসর হও। আর যেই ধর্মকে নিজের ধর্ম বলে গৌরব বোধ করো, তার উপদেশ গুলি কে কাজে পরিণত করো, ঈশ্বর তোমাদের সাহায্য করব। 

2প্রত্যেক নারী পুরুষকে ঈশ্বরের দৃষ্টিতে দেখতে থাকো। যদি তোমরা কাউকে সাহায্য করতে পারো, অবশ্যই ঝাঁপিয়ে পড়ো। আর যদি সাহায্য করতে ইচ্ছে না করে বা তুমি সাহায্য করতে না চাও তাহলে সরে যাও অন্যকেও ঠিক সাহায্য করবে। 

দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে আমি যেন ঈশ্বরকে দেখি, নিজের মুক্তির জন্য তাদের কাছে গিয়ে তাদের পুজো করবো, ঈশ্বর তাদের মধ্যে রয়েছেন। তোমাদের সবার ভেতরে মহাশক্তি রয়েছে নাস্তিকের ভেতরে তা নেই, যারা আস্তিক তারা বীর তাদের মহাশক্তির বিকাশ হবেই। শুধু সংখ্যাধিক্য দ্বারাই মহান কর্ম সম্পন্ন হয় না অর্থ, ক্ষমতা, পান্ডিত্য কিংবা বক্তৃতা এগুলির কোনটাই একটি বিশেষ কোন মূল্য নেই। পবিত্র খাঁটি ও প্রত্যক্ষ অনুভূতি সম্পন্ন ব্যক্তিরা এ জগতে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। 

কোন ব্যক্তি অসত্যের দিকে আকৃষ্ট হয় তার প্রধান কারণ হলো সে সত্য কে ধরে রাখতে পারছেনা। অতএব যা মিথ্যা তা দূর করার একমাত্র উপায় হলো যা সত্য তা মানুষকে দিতে হবে। সত্যটা কি তাকে সেটা জানিয়ে দাও। সত্যের সাথে সে নিজের ভাবে তুলনা করুক। তুমি তাকে সত্য জানিয়ে দিলে ওখানে তোমার কাজ শেষ হয়ে গেল। 

অজ্ঞানতাই বন্ধনের কারন, আমরা অজ্ঞানেই বদ্ধ হয়েছি। জ্ঞানের উদয় দ্বারাই অজ্ঞানতার নাশ হবে। মানুষকে সর্বদা তার দুর্বলতার বিষয়ে ভাবতে বলা তার দুর্বলতার প্রতিকার করা নয়। তার শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়াই হলো প্রকৃত প্রতিকারের উপায়।

মানুষ মূর্খের মতো মনে করে স্বার্থপর উপায় সে নিজেকে সুখি করতে পারে। বহুকাল চেষ্টার পর অবশেষে বুঝতে পারে প্রকৃত সুখ স্বার্থতা নাসে এবং নিজেকে ছাড়া অন্য কেউই সুখী করতে পারবে না। মনে রাখবে প্রথমে অন্নের ব্যবস্থা করতে হবে, তারপর ধর্ম।

আশা করি আজ আমি বিবেকানন্দের বাণী গুলি আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম সেগুলো যদি আপনারা সঠিক মাত্রায় মেনে চলেন তাহলে আপনাদের জীবনের পথ অনেক মসৃণ হবে এবং যতই বিপদ আসুক না কেন আপনারা সঠিক রাস্তায় নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। 


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *