সঠিক পথ বেচে নাও

স্বামী বিবেকানন্দ যুব সমাজের জন্য রচনা করে গেছেন জ্বলন্ত বক্তব্য। তার প্রতিটি বাক্যের মধ্যে ছেড়ে গেছেন যৌবনের ক্ষমতা, লক্ষ্যে পৌঁছানোর উদ্দীপনা। 

বিবেকানন্দ বলেছেন :- যুবক কারা ? যারা দুর্নীতির সাথে সর্বত্র সংঘর্ষ করে যায় সমস্ত খারাপ গুণাবলি থেকে নিজেকে দূরে রাখে, বাক্য নয় কর্ম বড় হয়, যে ক্ষমতাশীল হওয়ার সাথে সাথে চিন্তাবিদ হয়, যে গতানুগতিক থেকে সকলকে মুক্ত করেকরে, নতুন দিশা দেখায় সেই যুবক।

কখনো না করে না, তুমি চেষ্টা করলে সব কিছু করতে পারো, তুমি অনন্ত শক্তির আধার, তোমার মধ্যে সমস্ত শক্তি রয়েছে তুমি সবকিছুই করতে পারো। 

সে ভীরু সে কাপুরুষ যে ভাগ্যের উপর সবসময় নিজেকে ছেড়ে দেয়, যে বলে এটা ভাগ্যের পরিহাস। সেই শক্তিশালী সেই বলশালী, যে বলে আমি আমার ভাগ্য নিজেই তৈরি করে নেব। 

একটি লক্ষ্য গ্রহণ করো এবং সেই লক্ষ্যের উপর নিজের ধ্যান, জ্ঞান, চিন্তাকে উৎসর্গ করো। নিজের মাংসপেশি, শরীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কে ওই লক্ষ্যপূরণের কাজে লাগাও, ওই বিচার ছাড়া বাকি বিচারকের ত্যাগ করো এটাই সফলতার একমাত্র পথ। 

জগত সংসার কি ভাবছে সে দিকে চিন্তা করার তোমার কিছুই নেই, দুনিয়াকে ভাবতে দাও তুমি তোমার কাজে অবিচল থাকো। তারপর দেখো জগত একদিন তোমার হাতের মুঠোয় চলে আসবে। যা তুমি মনেপ্রাণে চিন্তা করবে তুমি সেই ভাবেই তৈরি হবে, যদি তুমি নিজেকে ক্ষমতাহীন ভাবো তাহলে তুমি নিজেই ব্যর্থ ক্ষমতাহীন হয়ে পড়বে। কিন্তু যদি তুমি নিজেকে শক্তিশালী সফল ভাবো তাহলে তুমি সফলতা চরম শিখরে পৌঁছে যাবে। 

যদি তোমার কাছে কোনদিনও সমস্যা উপস্থিত না হয় তাহলে তুমি ভাববে তুমি খারাপ পথ অনুসরণ করেছো। সমস্ত শক্তি তোমার ভেতরে রয়েছে তোমার ভেতরে সমস্ত ক্ষমতা রয়েছে, নিজেকে কখনো একা ভেবো না, নিজেকে কখনো দুর্বল ভেবো না, ওঠো জেগে ওঠো নিজেকে জাগিয়ে তোলো নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলো।

যতদিন বেঁচে রয়েছে শুধু শিখতে থাকো কারণ শেখার কখনো শেষ হয় না। আর অনুভব জীবনের সবথেকে বড় শিক্ষক। 

দুনিয়া যদি উপহাস করে তবুও মানুষকে তার কার্য করা উচিত।

ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত শক্তি আমাদের মধ্যে বর্তমান। 

আমরা নিজের চোখেই হাত রেখে বলি সমস্ত কিছু অন্ধকারে পরিপূর্ণ।

নিজেকে দুর্বল ভাবা সবথেকে বড় পাপ, সাহসী হও শক্তিশালী হও। ওঠো জাগো আর দৌড়াও লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমে যেওনা হেরে যেও না শুধু দৌড়ে যাও নিজের লক্ষ্যের দিকে। যতক্ষন পর্যন্ত তুমি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছ না ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার ভগবানের উপরেও বিশ্বাস আসবেনা।

যা তোমার শারীরিক-মানসিক বৌদিক দিক থেকে দুর্বল করে দেয়। সেই সমস্ত কেই জীবন থেকে সরিয়ে দাও। যখন তুমি ব্যস্ত হয়ে যাও তখন কিছু কিছু জিনিস তোমার সহজ বলে মনে হয়, কিন্তু যদি তুমি অলস হও তাহলে কিন্তু কোন কিছুই তোমার সহজ বলে মনে হবে না। 

কারো জন্যে তুমি অপেক্ষা করো না থেমে থেকো না যা তুমি করতে জানো তাই দিয়েই তুমি শুরু করো। একসময় কেবলমাত্র একটি কাজই করো মনোযোগ দিয়ে আর নিজের সমস্ত শক্তিকে ওই কাজের ওপর দান করো। মনের শক্তি সূর্যের আলোক রশ্মী সমান হয়, যদি এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয় জ্বলে ওঠে। 

যে সমস্ত জ্ঞান তোমায় শক্তিশালী মজবুত করে তাকে গ্রহণ করো, যে বিচার যে জ্ঞান তোমায় দুর্বল করে দেয় তাতে তুমি দূর করে ফেলো। 


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *