যা চাইবেন তাই হবে

সুখ আমরা প্রত্যেকেই চাই, কিন্তু আমরা সুখ সবাই পাইনা। ধনী হওয়ার ইচ্ছা তো প্রত্যেকেরই রয়েছে কিন্তু কতজন তা পূরণ করতে পেরেছে?

আমি আপনাদের কিছু পদ্ধতি বলব সেগুলো যদি আপনারা পালন করেন অথবা মেনে চলেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার সমস্ত চাহিদাকে জিতে নিতে পারবেন এবং আপনি আপনার গোলের দিকে এগিয়ে যাবেন। 

যদি সম্পূর্ণ জানতে চান তাহলে এই বিষয়টি পুরোপুরি পরুন। 

আমাদের ব্রেনের দুইটি পাঠ রয়েছে এক হল কনসাস মাইন্ড আর দুই হলো সাবকনসাস মাইন্ড। অর্থাৎ চেতন মন এবং অবচেতন মন, আমরা যা কিছুই কাজ করিনা কেন সবকিছুই ওই চেতন মনের দ্বারা সম্ভব হয়। এই চেতন মন ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে এবং ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত সব কাজ করে।

আমাদের মস্তিষ্ক যদি ১০০% ধরা হয় তারমধ্যে সাবকনসাস মাইন্ড বা অবচেতন মন হল 90 পার্সেন্ট, আর কনসাস মাইন্ড বা চেতন মন হল ১০% ।

এখন আপনার মনে এই প্রশ্নটা আসতে পারে যে সাবকনসাস মাইন্ড বা চেতন মন কি কোনো কাজ ই করে না। আসল বিষয় তো এটাই আমাদের যেসব অঙ্গ স্বয়ংক্রিয় অর্থাৎ অটোমেটিক পরিচালিত হয়, বা যেই বিষয়টিকে আমরা অভ্যাসে পরিণত করি সকাল থেকে উঠে আমরা যে সমস্ত কার্য গুলি করি যেমন ব্রাশ করা, গাড়ি চালানো বা অন্য কোন কাজ করা এই সমস্ত কাজ গুলি কিন্তু সাবকনসাস মাইন্ড দ্বারাই পরিচালিত হয়। 

ধরুন যখন আপনি গাড়ি চালান তখন আপনাকে রাস্তা দেখতে হচ্ছে ব্রেক, এক্সেলেটর, ক্লজ এগুলো সব মেন্টেন করতে হচ্ছে এই সবকিছুই আপনি করছেন কিন্তু আপনার কোন অসুবিধা হচ্ছে না, সেই সময় হয়তো আপনি অন্য কিছু ভাবছেন বা অন্য কিছু পরিকল্পনা করছেন কিন্তু আপনার গাড়ি কিন্তু অটোমেটিকলি চলছে এবং সেটা আপনি পরিচালনা করছেন এখানে কখন আপনার ব্রেক দরকার কখন আপনাকে ক্লাজ ব্যবহার করতে হবে কখন এক্সস্লেটার ব্যবহার করতে হবে এই সমস্ত কিছু কিন্তু আপনি নিজেই সামলাচ্ছেন তবে এ নিয়ে কিন্তু আপনি ভাববেন না এই যে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে এটাই হলো সাবকনসাস মাইন্ড এর কাজ। 

যদি বিষয়টিকে সহজভাবে বলা যায় তাহলে যে কাজটি অভ্যাসে পরিণত হয় তা সাবকনসাস মাইন্ড করে থাকে। সাবকনসাস মাইন্ড খারাপ ভালোর পার্থক্য বোঝে না। যে কাজের অর্ডার পায় সেই কাজটি সে করে। বিষয়টির উদাহরন দিয়ে বলি ধরুন একটি ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে এখানে ড্রাইভার হলো সাবকনসাস মাইন্ড, এবং গাড়িটিও হলো সাবকনসাস মাইন্ড, গাড়িটি রাস্তার ওপর চালানো হবে না খাদে নামিয়ে দেওয়া হবে, তা গাড়িটি ডিসাইড করেন আর ডিসাইড করে ড্রাইভার, এমনই আমাদের সাবকনসাস মাইন্ড হলো এমনই একটি পাওয়ার যা কনসাস মাইন্ড দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে কনসাস মাইন্ড দ্বারা একবার পরিচালিত হলে তা পরিবর্তন করা আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। 

আমরা সাধারণত দুঃচিন্তা করি দুঃখ পাই তার ফলস্বরূপ আমরা ডিপ্রেশনে ভুগি। কিন্তু কেন এটি হয়? এই ডিপ্রেশন এর কারণ হলো সাবকনসাস মাইন্ড। কিন্তু কিভাবে আমরা সব স্পন্সারস মাইন্ড কে ডিপ্রেস করি ? কেন আমরা কি চাই আমরা কষ্ট পাই? এটাই তো মজা একবার যদি কোন কিছু সাবকনসাস মাইন্ড কে অভ্যাসে পরিণত করা তবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন। 

এখন আপনার প্রশ্ন হবে যে আমি কখন বা কবে এই চিন্তা সাবকনসাস মাইন্ড করে দিলাম? আমিতো সর্বদাই খুশি থাকতে চেয়েছি। এই বিষয়টি এখন আমি আপনাকে বলব।

দেখুন আমরা সবসময় সেই বিষয়গুলো চিন্তা করি যেগুলো খারাপ বা যেখান থেকে আমরা দুঃখ পেতে। এই চিন্তা করতে করতে এই সাবকনসাস মাইন্ডে মেসেজ চলে যায় । আমি কিন্তু আপনাকে আগেই বলেছি যে সাবকনসাস মাইন্ড কিন্তু খারাপ ভালোর পার্থক্য বোঝে না। আমরা সবসময় সেগুলোই ভাবেই যেই বিষয়গুলো ভাবলে আমাদের খারাপ লাগে বা আমাদের দুঃখ পেতে হয়, দুশ্চিন্তার বিষয় গুলি বারবার রিপ্লে হতে থাকে এবং যার ফলস্বরুপ আমরা ডিপ্রেশনের শিকার হয়ে পরি। ধরুন একজন স্মোকার যদি চায় যে শেষ স্মোক করা ছেড়ে দেবে তা একপ্রকার ইম্পসিবল। কারণ এই ব্যক্তির এই স্মোক করার পদ্ধতিটি বারবার রিপিটেড হয়ে সাবকনসাস মাইন্ডে সেট হয়ে গেছে এখান থেকে বেরিয়ে আসা খুবই কঠিন।

তো আপনি কিভাবে এই জিনিসগুলো পরিবর্তন করবেন যেগুলি আপনি করতে চান না তো তার জন্য আপনাকে কি করতে হবে কিছু জিনিস বেছে নিতে হবে যখন সাবকনসাস মাইন্ড একটিভ হয় আমরা কিভাবে নিজেদেরকে খুশি রাখবো আমাদের সাবকনসাস মাইন্ড কে মেসেজ দিতে হবে। 

সাবকনসাস মাইন্ড একটিভ হয় রাতে যখন আমরা ঘুমোতে যাই, সাবকনসাস মাইন্ড সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগে পর্যন্ত একটিভ থাকে, আপনি যখন রাতে ঘুমাতে যাচ্ছেন তখন কোনরকম ইলেকট্রিক ডিভাইস আপনি কাছে রাখবেন না। মোবাইল টেলিফোন রাউটার এ সমস্ত জিনিস আপনি আপনার কাছ থেকে সরিয়ে দিন। এরপর বিছানায় আপনি শুয়ে পড়ুন এবং এই কথাগুলি ভাবুন যে কোন কোন বিষয় থেকে আপনি আনন্দ পাবেন এবং কোন বিষয়টি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানোর কাজে সহযোগিতা করবে, যেমন ধরুন আপনি এইভাবে চিন্তা করুন যে আপনার জীবনের যে লক্ষ্যটি সেটি আপনি অ্যাচিভ করে নিয়েছেন সেই মুহূর্তটা অনুভব করুন এবং আপনি ইমেজিন করুন যে সেই মুহূর্তটা আপনি কিভাবে কাটাবেন, এইসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করুন চিন্তা করুন যে আপনি খুব সুখী আপনার মত সুখী ব্যক্তি আর কেউ নেই। এইসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করুন এবং ভাবুন যে আপনার চারপাশের মানুষ আপনাকে ঘিরে রয়েছে এবং আপনি তাদের কাছে খুবই প্রয়োজনীয়। এগুলি আপনি ভাবুন প্রতিদিন দেখবেন আপনার সাবকনসাস মাইন্ড এগুলোকেই ভেবে নিয়েছে এবং এগুলি সে প্রতিদিন করতে চাইবে। এবং আপনি যখন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠবেন তখন আপনার সাবকনসাস মাইন্ড আপনার কনসাস মাইন্ড কে এর পজেটিভ আনসার দিতে থাকবে। আর আপনার কনসাস মাইন্ড আপনাকে সেই লক্ষ্যের দিকে ধীরে ধীরে আপনাকে নিয়ে যেতে শুরু করবে। আপনাকে খুশি রাখবে এবং আপনার দুঃখ গুলো কখন উধাও হয়ে যাবে আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন।

আপনাকে যে মেসেজটি আমি দিলাম সেটি ফলো করুন দেখবেন আপনি অবশ্যই সাফল্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং আপনার সাফল্য খুব শিগগিরই আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *