মালালা ইউসুফজাইয়ের লড়াই

একজন নারী কেন পরিবর্তন আনতে পারবে না? বন্দুক দিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের হত্যা করা যায়। কিন্তু শিক্ষা দিয়ে সন্ত্রাসবাদকে হত্যা করা যায়। 1997 খ্রিস্টাব্দে 12 ই জুলাই পাকিস্তানের জন্মগ্রহণ করে মালালা ইউসুফজাই। একজন পাকিস্তানী শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সারা বিশ্বের মানুষের কাছে আজীবন স্মরনীয় হয়ে আছে।

2014 সালের 12 জুলাই জাতিসংঘ মালালা দিবস পালন করে তার জন্ম তারিখ উপলক্ষে। 12 ই জুলাই মালালার কুড়ি তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সবার উদ্দেশ্যে তিনি কিছু অনুপ্রেরণামূলক বাণী তুলে ধরেছিলেন। আর সেই অনুপ্রেরণামূলক বাণী বলি আজকে আমি আপনার সামনে তুলে ধরবো। এই বানিগলি আপনাকে অনুপ্রাণিত করার সঙ্গে সঙ্গে কিছু শিক্ষামূলক ধারণা ও তুলে ধরবে। 

বাণী বলি শুরু করার আগে আমি আপনাদের মালালা ইউসুফজাই এর জীবন কাহিনীটি সংক্ষেপে জানাবো।পারেনি

মালালা ইউসুফজাই 1997 খ্রিস্টাব্দে 12 ই জুলাই পাকিস্তানের মিনগোড়া তে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই আর মা টুর পেকাই ইউসুফজাই। 

না না বাধা ও প্রতিকূলতা তাকে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে আটকাতে পারেনি। আজ এই মালালা হয়ে ওঠার পেছনে তার একটি বড় ইতিহাস রয়েছে।

2007 সালে মাওলানা ফজলুল লাহোরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি তালেবানদের একটি শাখা দেশের উত্তর-পশ্চিমে ফোয়াত উপত্যকা দখল করে নেয়। ইসলামী আইনের বলে টেলিভিশন দেখাও বন্ধ করে দেওয়া হয়, এবং তারপরে গান বাজনাও বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর পরের বছরই মেয়েদের লেখাপড়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয় । একই সঙ্গে প্রায় 150-200 টা স্কুল বোমা মেরে ধ্বংস করে দেয় জঙ্গী সংগঠন। আর সেখান থেকে ঘুরে দেখা এই তালিবানি মেয়েটির নাম মালালা ইউসুফজাই।

মেয়েদের এই কষ্টের কথা দুঃস্বপ্নের কথা তিনি বিবিসির ইংরেজি ওয়েবসাইটে তুলে ধরেছিলেন । সংবাদ মাধ্যম তাকে জায়গা করে দেয়। মালালা ও তার বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই কে একটি তথ্যচিত্রের দ্বারা প্রকাশ করতে বলেন নিউ ইয়ারস টাইম। 

2011 সালে পাকিস্তানি সেনারা সোয়াত উপত্যকা’ থেকে তালেবানদের পিছু হাটতে বাধ্য করায়। সেটি ছিল মালালার কারনেই, মালালা আবার স্কুলে ফিরে আসে। প্রকাশ্যে তালেবানদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পেত না। একমাত্র এই মেয়ে যে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানায়। তাকে এই সাহসিকতায় এনে দেয় জাতীয় যুব শান্তি পুরস্কার। এখন বর্তমানে এই পুরস্কারটি নাম জাতীয় মালালা পুরস্কার।

এরপর কুল মাকায় মালালা হিসেবে পাকিস্তানি আত্মপ্রকাশ করে এবং বিভিন্ন জায়গায় সাক্ষাৎকার দিতে শুরু করে। 2012 সালের 9 অক্টোবর যখন স্কুল থেকে তিনি ফিরছিলেন তাঁর ওপর গুলি চলে, খবরটা আস্তে আস্তে পুরো পৃথিবীতে রটে যায় ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। তিনি জখম হয় এবং উনাকে নিয়ে যাওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে। সুস্থ হয়ে সেখানে তিনি তার পড়াশোনা শুরু করেন। 

রাজ্যের বার্মিংহামের এডবাস্টন হাই স্কুল ফর গার্লস শিক্ষার্থী মালালা মাত্র 17 বছর বয়সে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। আজ মালালা সারা পৃথিবীর বুকে একটি মহীয়সী মহিলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই মালালার কিছু কাল জয়ী বক্তব্য রয়েছে “আমাদের মনে রাখতে হবে একটি বই, একটি কলম, একটি শিশু এবং একজন শিক্ষক এই বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে” । “বিশ্ব যখন নীরব থাকে একটি কণ্ঠস্বরই তখন শক্তিশালী হতে পারে”। 

এটা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে তুমি কে তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে, নিজেকে সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে, তালিবানরা আমাদের কাছ থেকে কলম বই কেড়ে নিয়েছিল। তবে তারা আমাদের চিন্তাভাবনাকে বিরত রাখতে পারনি। তিনিই বলতে চেয়েছিলাম যে টাকা দিয়ে কলম বই কেনা যায় কিন্তু শিক্ষা নয়। 

আমরা ভীত তবে আমাদের সাহসের চেয়ে আমাদের ভয়টা শক্তিশালী নয়। যদি একজন পুরুষ সবকিছু ধ্বংস করে দিতে পারে তবে একজন নারী কেন পরিবর্তন আনতে পারবে না। আমি সৃষ্টিকর্তাকে বলেছিলাম আমাকে 1 বা 2 ইঞ্চি লম্বা করার জন্য, তবে তার পরিবর্তে আমি এত উচ্চতর স্থানে উঠেছি তা আমি পরিকল্পনাও করতে পারি না। আমি চিৎকার করতে পারি তবে চিৎকার করলে কেউ শুনবে না তাই কণ্ঠস্বর উঁচু করেছি। 

পৃথিবীতে দুইটি ক্ষমতাধর শক্তি রয়েছে একটি হচ্ছে অস্ত্র আর আরেকটি কলম। এই দুটির চেয়ে পৃথিবীতে আরো ক্ষমতাধর শক্তি রয়েছে সেটি হল নারী শক্তি। মালালা ইউসুফজাইয়ের এই বিখ্যাত উক্তি গুলি আমি আপনার সামনে তুলে ধরলাম আশা করি আপনি যদি এই উক্তি গুলি মেনে চলেন এই নীতি গুলি মেনে চলেন তাহলে আপনিও জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন এবং সফল হতে পারবেন। 

মনে রাখবেন আপনার মধ্যেও সেই তেজ রয়েছে সেই আগুন রয়েছে যা সমস্ত বিভেদের প্রাচীর কে ভেঙে তছনছ করে দিতে পারে। আপনার মধ্যে সেই সব ক্ষমতা রয়েছে যা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে তাই নিজের মধ্যে সেই শক্তিকে জাগ্রত করুন এবং এগিয়ে জান নিজের সফলতার দিকে নিজের লক্ষ্যের দিকে। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *