মনকে জাগিয়ে তুলুন

আমি ব্যর্থ হয়েছি কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়েছি, আমি দুঃখ পেয়েছি কিন্তু সামলে নিয়েছি, আমি ভুল করেছি কিন্তু সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েছি, আমি অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আজো বেঁচে আছি, আমি নিখুঁত নই, আমি একজন মানুষ, আমার যা আছে তাই নিয়েই আমি সুখী, আমি মানুষ। তোমার মনের মধ্যে প্রতিদিন এই কথাগুলো বার বার বল। দেখবে তোমার জীবনে অনেক শান্তি ফিরে আসবে।

আমি সেই সব লোকেদের কাছে কৃতজ্ঞ যারা আমার খারাপ সময় আমার সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে। কারন সেই খারাপ সময় আমার সঙ্গ না ছেড়ে দিলে তাদের ওপর থেকে আমার বিশ্বাস যেতনা। আর এটা কখনোই শিখতে পারতাম না যে কিভাবে সমস্যার সময় নিজেকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে শিখতে হয়। কিভাবে সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়, বিশ্বাস হারিয়ে গেলে কিভাবে নিজেকে একা বাচিয়ে রাখতে হয়। আমি সম্মান করি আমার সেইসব শত্রুদের যাদের আঘাত পেয়ে আমি জীবনে কিছু শিখতে পেরেছি।

আমরা সবাই সীমাহীন শক্তির অধিকারী কিন্তু কিন্তু চোখে হাত রেখে তবু আমরা মাঝে মাঝে বলি চারিদিকটা কি অন্ধকার। আলো কিন্তু অন্ধকারটাই বেশি উজ্জ্বল ভাবে প্রকাশ পায় তাকে অন্ধকার কখনোই দমিয়ে রাখতে পারেনা। তাই খারাপ সময় আসবে না জীবনে এমনটা ভাবা উচিত নয়। কিন্তু বিশ্বাস রেখো সমস্ত বিপদ কাটিয়ে তোমার মধ্যে আলো ফুটবেই। তুমি তোমার সফলতার রাস্তায় পৌঁছে যাবেই যাবে।

ঈশ্বর তাদেরকেই কিছু দেন যারা নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখে। কিন্তু তোমাকে কিছু দেয়নি কারন তোমার কি ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস আছে? একটা ছেলে একটি মেয়েকে প্রপোজ করলে মেয়েটি না করে দেয় ছেলেটি হাসিমুখে তার বন্ধুদের কাছে ফিরে আসে, বন্ধু বলে “কিরে তোর প্রপোজ না করে দিল আর তুই হাসছিস?” ছেলেটি বলল “আমার কি ? আমি কাঁদবো কেনো ? ” বন্ধুটি বলল “ কারণ ও তোকে না বলে দিয়েছে” , ছেলেটি বলল “আরে ধুর আমি এমন একজনকে হারালাম যে আমাকে একটুও ভালোবাসতো না আর ও এমন একজনকে হারালো যে ওকে খুব ভালোবাসতো, নিজের জীবনের থেকেও বেশি। কাঁদা তো ওর উচিত আমি কেন কাঁদবো ”।

যে তোমাকে সবথেকে বেশি ঘৃণা করে যে তোমাকে ভালোবাসে না তার জন্য তোমার দুঃখ পাওয়ার দরকার নেই, দুঃখ করা তো ওই ব্যক্তিটি দরকার যে তোমার ভালবাসাকে মূল্য দিতে পারেনি, সে বুঝতে পারেনি যে পৃথিবীতে সবথেকে বেশি তাকে একজন ভালোবাসতো, সে তাকে অবজ্ঞা করলো। তাইতো প্রেমে বা নিজের প্রিয় মানুষের থেকে যারা ধাক্কা খায় তাদের দুঃখ করা উচিত নয়। 

একজন সফল ব্যক্তি তো সেই হয় যে সেই সমস্ত ইট কাঠ পাথর দিয়ে বাড়ি তৈরি করে যে সমস্ত ইট-কাঠ-পাথরের সকলের ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। এটাকে বলা হয় আত্মবিশ্বাস আর এটাই তোমাকে শুরু করতে হবে। একটা কথা মনে রেখো নিজের সুখের দায়িত্ব কখনো কাউকে দিওনা। কারণ সেটা হারিয়ে গেলে আপনি আর ফিরে পাবেন না। তুমি সত্যিই খুব কষ্ট পাবে। 

একটা কথা মনে রাখবে কখনো কোনো বড় কাজ করতে গেলে ঝুঁকি নিতেই হয়। জীবনে কখনো রিক্স না নিলে সফলতা পাওয়া যায় না। একটি জাহাজ ততক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত ওই জাহাজটি বন্দরে বাঁধা থাকে। কিন্তু এটাও সত্যি যতক্ষণ পর্যন্ত না ওই জাহাজটি জলে নামবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার তৈরি হওয়ার মূল্যই সে পাবে না। তেমনি তুমি বাড়িতে দরজা বন্ধ করে বসে থাকলে হয়তো তুমি সুরক্ষিত থাকবে কিন্তু তোমাকে তৈরি করার প্রকৃত উদ্দেশ্য টাই নষ্ট হয়ে যাবে। 

একটা দরজা বন্ধ হয়ে গেলে আর একটা দরজা খুলে যায়। কিন্তু কখনো কখনো আবার বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজা খুলে যায় যেটা আমাদের চোখে পড়ে না। একটা পাখি কখনোই প্রচুর ডালে বসতে ভয় পায় না কারণ সে জানে যতই বিপদ আসুক না কেন সে কখনো পড়ে যাবে না কারণ সেটা তার আত্মবিশ্বাস। এখান থেকে এই শিক্ষাটা আমাদের নেওয়া উচিত যে জীবনে কখনো কিছু করতে গেলে ঝুঁকি নিতে ভয় পেয়ো না, নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস রাখুন সফলতা তোমার কথা শুনবে।

একটা সঠিক সিদ্ধান্ত তোমার আত্মবিশ্বাস কে দ্বিগুন করে দেয়। একটা ভুল সিদ্ধান্ত দ্বিগুণ করে দেয় তোমার অভিজ্ঞতা কে। তাই যে অবস্থাতেই থেকো না কেন চিন্তা করোনা। একটা সময় অতি ভদ্র ভাবে সবকিছু সহ্য করা যায়, কিন্তু তারপর সবাই বলতে থাকে ব্যাস আর না। একমাত্র সময়ই ফিরে তাকাবে, যখন তোমার এটা জানতে ইচ্ছে করবে যে তুমি আসলে কতটা দূর পর্যন্ত পৌছেছো।

একটি ফুলকে বেশি কাছ থেকে দেখতে চাইলে যেমন তার পরাগ আমাদের ক্ষতি করতে পারে তেমনি জীবন নামক ফুলটাকে বেশি নাড়াচাড়া করলে তা মলিন হয়ে যেতে পারে।

একটি হাঁস সারাদিন জলে থাকলেও তার গায়ে কখনো এক ফোটাও জল লাগে না আর যদি লেগে থাকে সেটা ঝরে পড়ে যায়। কেমনি মা তার সন্তানকে যতই খারাপ কথা বলুক না কেন সেটা কখনো সন্তানের গায়ে লাগেনা। তাইতো মায়ের কথা কে কখনো গায়ে নিতে নেই মায়ের কথা সম্পূর্ণ আশীর্বাদ। চলার পথে একদম নিখুঁত মানুষ খুঁজতে যেও না বিধাতা তাদেরকেই মানুষ তৈরি করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে যাদের মধ্যে খুঁত রয়েছে। বেশি নিখুঁত মানুষ খুঁজতে গেলে তুমি তোমার মানুষটিকে কোনদিনও খুঁজে পাবেনা। 

একবারে কঠিন কিছু কাজ করা অসম্ভব সেটা তোমার পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে যাবে কিন্তু তুমি যদি ছোট ছোট কঠিন কাজ গুলি করতে থাকো তাহলে যখন তোমার সামনে কোন বড় কাজ আসবে তখন তুমি সেটিকে খুব সহজভাবে করতে পারবে। যেমন বিন্দু বিন্দু জল দিয়েই কিন্তু সিন্ধু তৈরি হয় যেমন তিল থেকে তিলোত্তমা তৈরি হয়, তেমনি তোমার একটু একটু করে করা কাজই একদিন তোমাকে একটি বিশাল সফলতা এনে দিতে পারবে। 

এমন একজন তোমার জীবনে নিশ্চয়ই আসবে যে তোমার অতীত নিয়ে মাথা ঘামাবে না যে তোমার বর্তমান এবং তোমার ভবিষ্যৎ টা কে ভালোবাসবে। এমন কাউকে তুমি ভালোবেসো না যে তোমাকে প্রয়োজন ছাড়া মনে করেই না। তাকেই ভালোবাসো যে তার প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ও তোমাকেই প্রয়োজন মনে করবে। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *