ভয় পেত না

আজ আমি শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের এবং স্বামী বিবেকানন্দের কিছু আমি আপনাদের বলব যেখান থেকে জীবনের চলার অর্থই অনেকটা বদলে যাবে। স্বামী বিবেকানন্দ অনেক প্রশ্ন করতে ভালোবাসতেন। তিনি তাঁর মূল্যবান প্রশ্নগুলি রামকৃষ্ণ পরমহংসের কাছে বলেছিলেন। তারই কিছু অংশ আজ আমি আপনাদেরকে জানাবো। স্বামী বিবেকানন্দ পরমহংসের কাছে জিজ্ঞেস করেন “ ভালো মানুষের দুঃখ অতিরিক্ত পরিমাণে আসে কেন? ”। তিনি বলেছিলেন “ওরে হীরার উজ্জ্বলতাকে প্রকাশিত করার জন্য পালিশ করতে হয় রে ” “সোনাকে খাঁটি বানানোর জন্য আগুনে পোড়াতে হয়”। সৎ মানুষ যদি দুঃখ না পায় তাহলে পরিশুদ্ধ হবে কি করে? যাতে জীবন যুদ্ধে আরও শুদ্ধ হয় এইজন্যই তো তার দুঃখ। 

স্বামী বিবেকানন্দ আবার প্রশ্ন করলেন “ আমার নতুন কর্ম করার কোনো সময় নেই আমি কর্মের জ্বালায় জর্জরিত কেন?

 ” রামকৃষ্ণ এই প্রশ্নের উত্তরে জানান কর্মের কাজ ই হল মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলা তোমায় খুজতে হবে কোন কর্মটি তোমার করা উচিত হবে এবং কোনটা করা উচিত হবে না। 

তোমার যে কর্মটি করা উচিত হবে এই কর্মটিকে জড়িয়ে ধরে বাকি কর্ম গুলিকে পরিত্যাগ করার চেষ্টা করো । যেদিন তুমি এই প্রক্রিয়াটি মেনে চলবে সেইদিন তুমি সমস্ত কর্মের জ্বালা থেকে মুক্তি পাবে এবং তোমার যে কর্মগুলি করা উচিত সেই কর্মগুলি তুমি সঠিকভাবে সঠিক সময়ে করতে পারবে।

 তখন তোমার সেই কর্মটি করতে ভালো লাগবে মনের ইচ্ছে থাকবে এবং সেই কর্মটি তুমি মনোযোগ সহকারে পুরো শেষ করতে পারবে। 

বিবেকানন্দ পরমহংস কে জিজ্ঞেস করে যে “জীবন কেন এত জটিল আকার ধারণ করেছে,” উত্তরে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেন “জীবনে কোনটা ঠিক কোনটা ভুল এইসব চিন্তা ভাবনা ছাড়ো , তাহলেই তোমার জীবনের যত জটিলতা রয়েছে যত সমস্যা রয়েছে সব কেটে যাবে। 

স্বামী বিবেকানন্দ আবার শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব কে জিজ্ঞেস করেন যে “ আমি এতো দুঃখী কেন? আমি এত অশান্ত কেন? ” এই উত্তরে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব জানান দুঃখ করা তোমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে তাই তুমি এত দুঃখী। তাহলেই ধীরে ধীরে আনন্দের সুশীতল বাতাস তোমার শরীরে প্রবেশ করবে। এবং তোমার সমস্ত কিছু আনন্দময় হয়ে উঠবে। 

কিন্তু তুমি দুঃখ নিয়ে বেশি ভাবো বলে তাই তোমার জীবনে এত দুঃখ। তুমি যেই বিষয়টা নিয়ে বেশি ভাববে বেশি চিন্তা করবে বেশি সময় কাটাবে সেই জিনিসটাই তোমার জীবনের সাথে জড়িয়ে যাবে তুমি দুঃখের বিষয় ভাবা ছেড়ে দাও দুঃখ তোমাকে ছেড়ে চলে যাবে। 

বিবেকানন্দ বলেন মনের অশান্তির কারণ এই আমি সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারছিনা। উত্তরে রামকৃষ্ণদেব বলেন দেখো এই প্রশ্নের উত্তর তুমি তখনি পাবে যখন তুমি জেগে উঠবে। এই জেগে ওঠা বাইরে থেকে নয়, তুমি যদি বাইরে থেকে জেগে ওঠো তাহলে এর উত্তর তুমি কোনদিনও পাবে না তোমাকে জেগে উঠতে হবে নিজের ভেতর থেকে নিজের অন্তরাত্মা থেকে। নিজের মনকে প্রশ্ন করো কারণ তোমার মন যেটা বলবে সেটাই সঠিক সেটাই করো তাই নিজের মন থেকে যে উত্তরটা তুমি পাবে একমাত্র সেটাই হবে সঠিক পথ। 

স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের কথোপকথন থেকে আমি জীবনের কিছু সমস্যার সমাধান তুলে ধরলাম। যেই সমস্যাগুলির সমাধান আমাদের মধ্যে প্রায় আমরা খুজে পাই না, এবং যার ফলে আমরা ভুল রাস্তায় চলে যাই, ভুল সিদ্ধান্ত নিই এবং পরে হতাশায় ভুগি। তাই সঠিক বিবেচনা করে জীবনের সমস্ত সিদ্ধান্তগুলি আমাদের নেওয়া উচিত। তাহলেই সফলতার শিখরে আমরা পৌঁছতে পারব। 

ভুল সিদ্ধান্ত আমাদের ভুল পথে নিয়ে যাবে এবং আমরা যদি সেই ভুল সিদ্ধান্তের হাত ধরে এগিয়ে যাই তাহলে একদম শেষে গিয়ে আমরা নিজেরাই প্রস্তাব এবং নিজেদেরকে দোষারোপ করব তাই কখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেদের ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত কারণ সিদ্ধান্ত ভুল হতেই পারে তাই যখন আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেব সেটি বিবেচনা করে এবং আমাদের যে লক্ষ্যর জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেই লক্ষ্যটা কি পুরন হবে ?সেই দিক বিবেচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। 

আমাদের একটি ভুল সিদ্ধান্ত আমাদের পুরো জীবনটাকে নষ্ট করে দিতে পারে এবং তার ফলে আমরা কখনোই নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব না জীবনে সফল হতে পারব না জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারব না তাই সবসময় আমাদের নিজেদের প্রতি বিশ্বাস এবং নিজেদের অন্তর আত্মার প্রতি আশ্বাস দুটোই থাকতে হবে। 

কখনো থেমে থাকতে নেই দৌড়াতে হয় নিজের স্বপ্নের দিকে নিজের সফলতার দিকে আর যদি তুমি কখনো পড়ে যাও তাহলে আবার উঠবে আবার দৌড়োবে কারণ থেমে গেলে সেখানেই তোমার জীবন শেষ আর যদি তুমি উঠে দৌড়াতে শুরু করো তাহলে বিপদ আপদ তো আসবেই কিন্তু তুমি সেগুলো কাটিয়ে নিজের লক্ষ্যে নিজের সাফল্যে ঠিক পৌঁছে যাবে। 


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *