বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু বক্তব্য

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

সারা পৃথিবীর মানুষ ছাড়াও প্রায় সকলেই জানে এই কবির কথা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সকল প্রকার মানুষের মন বুঝে নিতেন অনায়াসে। তার লেখনীর স্পর্শে মানুষের অন্তরে প্রানের ছোঁয়া। তিনি যেন ছিলেন একজন মনস্তত্ত্ববিদ। তাঁর রচনার যেন মানুষকে নতুন প্রেরণা জাগায়। তার গান ও নৃত্যে রয়েছে নতুনত্বের ভাবনা যা এক নতুন কে আন্দোলিত করে।

সৃষ্টিকে ও ষ্ট্রাকে যে ভালোবাসার বন্ধনে একাত্ম করা যায় তিনি আমাদেরকে তা দেখিয়েছিলেন মানবহৃদয় আর মস্তিষ্ক যে বদ্ধ প্রাচীরের মধ্যে থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারে না, তিনি তা বিশ্বভারতী সৃষ্টির মাধ্যমে জগতের কাছে তুলে ধরেছিলেন। তিনি হলেন আধুনিক শিক্ষার প্রবর্তক তাইতো তিনি মহান দার্শনিক বিশ্ব বিখ্যাত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

ভারতবর্ষের প্রথম নোবেল পুরস্কারজয়ী ঐশ্বরিক ক্ষমতা সম্পন্ন পরম পুরুষ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রাণবন্ত অনুপ্রেরণা মূলক কিছু বক্তব্য ও উল্লেখযোগ্য বানী গুলি আজকে আমি আপনাদের শোনাবো। 

“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে” । আনন্দকে ভাগ করলে দুটি জিনিস পাওয়া যায় এক হচ্ছে জ্ঞান এবং অন্যটি হচ্ছে প্রেম। মন দিয়ে মন বোঝা যায়। গভীর বিশ্বাস শুধু নীরবে প্রেমের কথা টেনে নিয়ে আসে। আগুনকে যে ভয় পায় সে আগুনকে ব্যবহার করতে পারে না। মনুষ্যত্বের শিক্ষাটাই চরম শিক্ষা। আর সমস্ত তাই তার অধীন। নিজের অজ্ঞতা সম্বন্ধে অজ্ঞানতার মতো জ্ঞান আর কিছুই নেই। 

গোলাপ যেমন একটি বিশেষ জাতের ফুল, বন্ধু তেমন একটি বিশেষ জাতের মানুষ। মানুষ পণ করে পন ভাঙিয়া ফেলিয়া হাঁফ ছাড়িবার জন্য। যে ধর্মের নামে বিদ্বেষ সঞ্চিত করে ঈশ্বরের অর্ঘ্য হতে তৈরি হয় তারা হয় বঞ্চিত। ভয়ের তারা খেলেই ধর্মের পেছনে মানুষ লুকাতে চেষ্টা করে। সংসারে সাধু ও অসাধুদের মধ্যে প্রভেদ এইযে সাধুরা কপট আর অসাধুরা অকপট।

ক্ষমাই যদি করতে না পারো তাহলে তাকে ভালোবাসো কেন? সংসারে কোন কাজেই যে হতভাগার বুদ্ধি খেলে না সে নিশ্চয়ই ভালো বই লিখবে। আমি তোমায় প্রচুর পরিমাণে ভালোবেসেছি এবং অসংখ্য বার ভালোবেসেছি এক জীবনের পর অন্য জীবনেও ভালোবেসেছি বছরের-পর-বছর সর্বদা সর্বসময়।

অতীতকাল যত বড় কাল হোক না কেন বর্তমান কাল সম্বন্ধে একটা স্পর্ধা থাকা উচিত। মনে করা উচিত তার মধ্যে জয় করিবার শক্তি আছে। ধর্ম যারা সম্পূর্ণ উপলব্ধি না করিয়া প্রচার করার চেষ্টা করে তারা ক্রমশ ধর্মকে জীবন হইতে দূরে ঠেলিতে থাকে। ইহারা ধর্মকে একটি বিশেষ গণ্ডি আখিয়া একটি বিশেষ সীমার মধ্যে আবদ্ধ করে। 

পাপকে ঠেকানোর জন্য কিছু না করাই তো পাপ। নিন্দা করতে গেলে বাহির থেকে করা যায়। কিন্তু বিচার করতে গেলে ভেতর থেকে করতে হয়। লোকে ভুলে যায় দাম্পত্যটা একটা আর্ট, প্রতিদিন ওকে নতুন করে সৃষ্টি করা যায়। সামনে একটা পাথর পরলে যে ঘুরে না গিয়ে সেটি নিয়ে পথ সংক্ষেপে করতে চায়। সফল হওয়ার যোগ্যতা শুধু তারই আছে।

যে পুরুষ ও সংশয় আকন্ঠিত ভাবে নিজেকে প্রচার করিতে পারে সেই সমস্ত পুরুষ সহজেই নারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার ধরিয়া রাখিবার মত এত বিড়ম্বনা আর হয় না।

শিমুল কাঠই হোক বা বকুল কাঠই হোক আগুনের চেহারাটা একি হয়। আমরা বন্ধুর কাছ থেকে মমতা চাই সমবেদনা চাই সাহায্য চাই সেই জন্য বন্ধুকে খুবই প্রয়োজন। ভালোবাসার কথাটা বিবাহ কথার থেকে আরও বেশি জানত।

পৃথিবীর সবচাইতে বড় দূরত্বটা কোনটা জানো? আমি তোমার সামনে থাকি কিন্তু তুমি জানো না আমি তোমাকে ভালোবাসি। প্রেমের আনন্দ থাকে স্বল্পক্ষণ কিন্তু বেদনা থাকে সারাজীবন। যে মরিতে জানে সুখের অধিকার তারই। যে জয় করতে জানে ভোগ করার অধিকার তারই সাজে। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ একটা মন আরেকটি মনকে খুজছে নিজের ভাবনার ভার নামাইয়া দেওয়ার জন্য।

আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য কিছু ভাবানুবাদ আমি আপনার সামনে তুলে ধরলাম। আপনার জীবনের পথে চলতে এটি যথাযথ আপনাকে সাহায্য করবে।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *