পাপ-ই মৃত্যু – বিবেকানন্দের মূল্যবান তথ্য

যখন আপনি ব্যস্ত থাকবেন তখন সবকিছুই সহজ বলে মনে হবে কিন্তু অলস হলে কোন কিছুই সহজ বলে মনে হবে না। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যদি আপনি যেতেন তাহলে নেতৃত্ব প্রদান করবেন। আর যদি হেরে যান তাহলে অন্যদের পথ দেখাতে পারবেন। 

স্বামী বিবেকানন্দর শুধু বাঙালীর জীবনে এক আদর্শ মহামানব ই নয়। তিনি যুগাবতার। 

তার দেখানো আদর্শ পথে কোটি কোটি মানুষ গিয়ে সফলতা চরম শীর্ষে উপনীত হয়েছেন। যিনি দেশের মানুষকে আলোর রাস্তা দেখিয়ে ছিলেন নেতিবাচক ভাবনার দিকে যিনি আলোর বার্তা দেখিয়েছিলেন, মানুষকে করেছিলেন অনুপ্রাণিত, করেছিলেন উদ্বুদ্ধ তিনি হলেন আমাদের স্বামী বিবেকানন্দ। 

8863 খ্রিস্টাব্দে 12 ই জানুয়ারি মকর সংক্রান্তির উৎসবের দিন উত্তর কলকাতার সিমলা অঞ্চলে ৩ নম্বর গৌড় মুখোপাধ্যায়ের স্ট্রিটে তিনি অবতীর্ণ হয়েছিলেন। নরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিল তার ছোটবেলার নাম স্কটিশ চার্চ কলেজে তিনি যুক্তি বিদ্যায় পারদর্শী হন। তার মধ্যে ফুটে ওঠে যুক্তিবোধ।

শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন তিনি। 8886 খ্রিস্টাব্দে সন্ন্যাস গ্রহণ করে তিনি হন স্বামী বিবেকানন্দ। নেতিবাচক ভাবনার বিরুদ্ধে তারা আন্দোলন ছিল আজীবন। যেখানে দুর্বলতা আর কাপুরুষতার পাপ। সেখানেই তিনি বিলিয়ে দিয়েছিলেন তার অনুপ্রেরণার মন্ত্র। ঘৃণা কেউ ভুলে ভালোবাসা কিভাবে মানুষদের বিলিয়ে দিতে হয় তা তিনি শিখিয়ে দিয়েছিলেন। এই মহান যুগাবতার যুব নায়ক। স্বামী বিবেকানন্দর কিছু মূল্যবান বক্তব্য এবং কিছু অনুপ্রাণিত বাণী আমি আপনাদের আজকে জানাবো। 

কখনো না বলো না, কখনো বলোনা আমি পারবো না। তুমি অনন্ত সব শক্তি তোমার মধ্যে রয়েছে, তুমি সবকিছুই করতে পারো। যা কিছু শারীরিক বৈদিক ও আধ্যাত্মিক ভাবে দুর্বল করে তোলে, সেটাকে বিষ ভেবে প্রত্যাখ্যান করো। দুনিয়া তোমার সম্পর্কে কী ভাবছে সেটা তাদের ভাবতে দাও। তুমি তোমার লক্ষ্যগুলোকে দৃঢ় রাখো, দুনিয়া একদিন তোমার পায়ের তলায় চলে আসবে। 

কখনো বড় পরিকল্পনা করোনা ধীরে ধীরে আগে এগিয়ে যাও। তুমি আগে ভূমি নির্মাণ করো তারপর সেটাকে ধীরে ধীরে প্রশস্ত করো। ইচ্ছা অজ্ঞতা ও বৈষম্য এই তিনটি হলো বন্ধনের ত্রিমূর্তি। মানুষের সেবাই হল ভগবানের পরম সেবা।

মহাবিশ্বের সীমাহীন পুস্তকালয় তোমার মনের ভেতরে অবস্থিত। ওঠো ততক্ষণ অব্দি থেমো না যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি সফল হচ্ছো। যতক্ষণ না পর্যন্ত তুমি তোমার প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারছ, ততক্ষণ তুমি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করাতে পারবে না।

মনের শক্তি সূর্যের কিরণের মতো যখন একজায়গায় কেন্দ্রীভূত হয়, উদ্দীপিত হয় এটি জ্বলে ওঠে। যেরকম তুমি ভাববে সেইরকমই তুমি হয়ে যাবে। যদি তুমি নিজেকে দুর্বল বিবেচনা করো তুমি দুর্বল হয়ে যাবে। নিজেকে শক্তিশালী করো, নিজেকে শক্তিশালী ভাবো তাহলে দেখবে তুমি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

শক্তি জীবন, দুর্বলতাই মৃত্যু, বিস্তার জীবন, সংকোচন মৃত্যু, প্রেম জীবন, ঘৃনা মৃত্যু। প্রত্যেকটা ধারণা যা তোমাকে দুটো করে সেটাকে আপন করে নাও। আর প্রত্যেকটি ধারণা যদি তোমাকে দুর্বল করে দেয় তাকে তুমি সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করো। সবকিছুই তোমার মধ্যে রয়েছে সেটার ওপর বিশ্বাস রাখো। যদি বিশ্বাস করো তুমি দুর্বল তুমি একা তুমি দাঁড়াতে পারবেনা তাহলে তুমি দুর্বল হয়ে পড়বে তুমি সত্যিই দাঁড়াতে পারবে না।

উঠে দাঁড়াও নিজের মধ্যে দৈবশক্তি কে আবিস্কার করো।

অন্য কারোর জন্য অপেক্ষা করো না যেটা তুমি পারো সেটা তুমি করো অন্য কারোর উপর ভরসা করো না। 

সমাজ অপরাধীদের কারনে খারাপ হয়না ভালো মানুষদের নীরবতার কারণে খারাপ হয়ে যায়। তারা একাই থাকেন যারা অন্যদের জীবিত রাখতে পারেন। একটি সময় একটি কাজই করো নিজের সমস্ত টুকু উজাড় করে মনোযোগ সহকারে সেই কাজটি করো তুমি তারপর দেখো সফলতা কোথায় থাকে। 

নিজেকে দুর্বল মনে করা সব থেকে বড় পাপ দুর্বলতাই পাপ দুর্বলতাই মৃত্যু। সত্যকে হাজার হাজার আলাদা আলাদা উপায় বলা যেতে পারে, তার পরেও সবকিছু সত্যিই থাকে।

একটি রাষ্ট্রের অগ্রগতি জানার সবচেয়ে ভালো উপায় হল সেই রাষ্ট্রের নারীদের অবস্থান দেখা। 

মহাবিশ্বের সমস্ত শক্তি প্রথম থেকেই আমাদের মধ্যে রয়েছে, আমাদের নিজের চোখের ওপর প্রথমে হাত রাখি তারপর কান্নাকাটি করি অন্ধকার আছে বলে। আমাদের অন্ধকারের জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। আমাদের চোখের থেকে আলো ছড়িয়ে দিলেই আমরা আলো দেখতে পাব। 

বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন স্রোত গুলি তাদের জল সমুদ্রের মিলিত করে, তেমনি মানুষ দ্বারা নির্বাচিত প্রত্যেকটি পদ ভালো হোক বা খারাপ তা ভগবানের সাথে মিশে যায়। যদি তোমার সাহায্য কারো দরকার হয় তুমি সেখানে হাত বাড়িয়ে দাও, আর যদি না করতে পারো সেখান থেকে সরে যাও অন্য কেউ তাকে সাহায্য করবে। 

ভক্তি, যোগ এবং কর্ম মুক্তির পথ হলো এই তিনটি, প্রত্যেকের কর্তব্য তার উপযুক্ত পথ টি অনুশীলন করে চলা তবে এই যুগে কর্মযোগের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

আজ যুব নায়ক স্বামী বিবেকানন্দের কিছু বাণী আমি তুলে ধরলাম আপনাদের সামনে আশা করি সেই বাণী গুলো যদি আপনারা মেনে চলেন তাহলে আপনাদের জীবনের পথে আপনাদের চলতে অনেক সাহায্য করবে এবং সাফল্য আপনারা পাবেনি। 


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *