ডেল কার্নেগীর অনুপ্রেরণা মূলক বানী

সাধারণত মানুষ যে পথ বা পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনি যদি সেখান থেকে স্বতন্ত্র থাকতে পারেন তবেই সেখান থেকে সাফল্য লাভ করবেন এটাই কিন্তু বহুদিন ধরে চলে আসছে। 

 যে মানুষের সত্তিকারের কোন উদ্দেশ্য নেই সার্বিক ক্ষমতা মাত্র 30% ব্যবহার করে সে চাইলেও কোনদিনও সফল হতে পারবে না। 

1962 সালের একটি উদাহরণ আপনার সামনে তুলে ধরি। 1929 সালে শেয়ার মন্দার পুনরাবৃত্তি হঠাৎ স্টক মার্কেট বিপর্যয়ের মুখে পরলো। প্রতিটি শেয়ারহোল্ডার তাদের শেয়ার গুলিকে বাজারে বিক্রি করে দিল। কিন্তু সেই সময় সবচেয়ে শক্তিশালী পল গেস্ট সমস্ত পরিস্থিতিকে পর্যালোচনা করে তাদের দালালকে সমস্ত শেয়ার কিনে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। 

চলতি বছরের পর অর্থাৎ পরের বছর যখন বাজারের তুলনায় অনেক বেশি শেয়ারের দাম উঠে গেল তখন সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন পল, এবং সমস্ত শেয়ার গুলিকে প্রচুর দামে বিক্রি করলে। আমি বলতে চাইছি যে তিনি সাধারণ মানুষের ভাবনার বিপরীত ভাবনা ভেবেছিলেন তাই তিনি এত বড় লাভের মুখ তিনি দেখতে পেয়েছিলেন। 

এখান থেকেই আমি কয়েকটি পয়েন্ট আপনার সামনে তুলে ধরব ডেল কার্নেগী তার বক্সের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। অবশ্যই এই নীতি গুলি যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে আপনি জীবনে অবশ্যই সাফল্যের মুখ দেখতে পাবেন।

১. আপনার নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের চিন্তাগুলি একত্রিত করুন। এবং সেগুলি সম্পর্কে যথাযথ ধারণা নিজের মধ্যে আনুন। তারপর ঐকান্তিক, আন্তরিকতা, একাগ্রতা অধ্যাপক পরিশ্রম এবং ধৈর্য সহকারে সম্পূর্ণভাবে আপনি আপনার নিজেকে নিয়োজিত করুন। 

২. আপনার সাফল্যের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং একটি সময়সীমা নির্দেশ করুন, যে এই সময়ের মধ্যে আপনার যে গোল সেটা আপনি এচিভ করবেন। এবং সেই বিষয়টা ওপর আপনি একটু মনোযোগ দিন দেখবেন আপনার আপনার গোলটি পূরণ করার পথে এগিয়ে যেতে পারছেন। 

৩. আপনার শ্রেষ্ঠ কাম্য বস্তু লাভের জন্য আপনার ভেতরের তীব্রতম আকাঙ্খাকে জাগ্রত করে তুলুন। উদ্দীপ্ত ইচ্ছা সর্ব ক্ষেত্রে সাফল্য লাভের হিসেবে উপযোগী হয়ে ওঠে। তবেই কিন্তু আপনার সাফল্য আপনার সামনে এসে পরবে।

৪. আপনার নিজের অদম্য শক্তির উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন। এটাই সাফল্য লাভের একমাত্র পথ। 

৫. তিনি বলেছিলেন সমস্ত প্রতিবন্ধীকতা বা প্রতিকূলতাকে পদদলিত করে অর্থাৎ পায়ের তলায় পিষে সামনের দিকে এগিয়ে যান। 

৬. যদি আপনি দৃঢ় চিত্তে দৃঢ় পা ফেলে আপনি আপনার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান , আপনার লক্ষ্য পূরণ হতে কেউ আটকাতে পারবেনা। 

৭. তিনি এটা বিশ্বাস করতেন তিনি বলতেন আমি যে কাজটি করছি সেটা যে সঠিক যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই বিশ্বাস আমার মধ্যে আসছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি সেটাকে পরিত্যাগ করব না আমি সেটাকেই চালিয়ে যাব। তিনি বলেছিলেন সুষ্ঠুভাবে কাজটি করা যদি আমার পক্ষে সম্ভব হয় তাহলে সেটা সমৃদ্ধি ও উন্নতি করবেই।

৮. তিনি বলেছিলেন সমস্ত রকম বাধা বিপত্তি প্রতিবন্ধকতা বা প্রতিকূলতার সঙ্গে লরাই করে দৃঢ় চিত্তে আমার লক্ষ্যবস্তুর পথে অগ্রসর হবো। কখনো কোনো দুশ্চিন্তা বা হতাশায় আমি কোনদিনও বিপর্যস্ত হব না। 

৯. তিনি বলেছিলেন অপর ব্যক্তি দ্বারা আমি কখনো আমার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবো না। এবং নিজে কখনো অন্যের পথে পরিচালিত হবো না। তিনি বলেছিলেন সমস্ত রকম শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে দূর করবার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করব। মানসিক দিক থেকে কখনো যদি অবসাদ গ্ৰস্ত হয়ে পরি, তাহলে আমার সংকল্প আমায় আবার জাগরিত করবে। 

১০. তিনি বলেছিলেন নিজের কাম্য বস্তু কে লাভ করবার জন্য ঐকান্তিক চেষ্টায় নিজেকে নিযুক্ত করব। তিনি বলেছিলেন যে সমস্ত মানুষ জীবনে সাফল্য লাভ করেছিলেন তারা তারা ঘাত-প্রতিঘাত, বাধা-বিপত্তি, বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন কিন্তু দৃঢ় চিত্তে সেই সমস্ত বাধাকে অতিক্রম করে সাফল্যের পথে পৌঁছেছেন।

তার এই বানী গুলি তিনি সারাজীবন পালন করেছিলেন আর যার কারণেই তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে আজও প্রত্যেকটি মানুষের মনের মনিকোঠায় রয়েছেন। যদি আমরা তার এই সমস্ত কথাগুলি জীবনে মেনে চলতে পারি তাহলে অবশ্যই আমরা সাফল্য পাব। 


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *