জ্ঞানী বুদ্ধিমানরা যা করে

ভবিষ্যতে সুরক্ষিত থাকার জন্য ধনসম্পত্তি রোজগাড় করা দরকার। এবং এই ধরনের সম্পত্তির রোজগার নিয়ে আজকের আলোচনা। চাণক্য বা কৌটিল্য আমাদের সামনে তুলে ধরেছিলেন কিছু বাস্তব সম্মত শ্লোক। যার ব্যাখ্যা আমাদের জানা খুবই দরকার। 

ভবিষ্যৎ বলে দেওয়া আমাদের অসাধ্য তবে হ্যাঁ আমাদের আচার-অনুষ্ঠান, কার্যাবলী অনেকাংশে ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের মধ্যে থাকা কুসংস্কার দুর্বলতা ও কুআচার-আচরণ নীচুতা হীনমন্যতা হলো আমাদের ছিদ্র আর এই ছিদ্র দ্বারাই বিপদ উপস্থিত হয়। বিপদ আকর্ষিত আসতে পারে যেমন অ্যাক্সিডেন্ট, বিপদকে এড়ানো অবশ্যই দরকার। কিন্তু সম্পূর্ণ বিপদ এড়ানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। 

তো এই বিপদ গুলি থেকে বাঁচতে আমাদের ধনসম্পত্তি অর্থ উপার্জন করে রাখা খুবই দরকার। চাণক্য বা কুটিলতা অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন। এই ধন-সম্পদ দ্বারা নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত করতে হবে। 

একটি পরিবারের অনেক সদস্য রয়েছে যারা আপনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে তাই আপনার উচিত কিছু অর্থ সঞ্চয় করে তাদের জীবনটা সুরক্ষিত করার। এবং কারো বিপদ হলে তাকে সাহায্য করা।

চাণক্য বলেছেন যদি স্ত্রীর বিপদ উপস্থিত হয় তাহলে সুরক্ষা সর্বাঙ্গে করা দরকার। আপনার সুখ-দুঃখের সাথী আপনাকে দেখেই কিন্তু সে আপনার সাথে সারাজীবন কাটাতে এসেছে। তাই তার সুরক্ষা করা আপনার প্রধান কর্তব্য। 

এবার আসবো অন্য একটি দিকে চাণক্য বলেছেন যদি নিজের বিপদ উপস্থিত হয় তখন সবকিছু ত্যাগ করে নিজের সুরক্ষা করা দরকার। দেখুন আপনার পরিবার আপনার মা-বাবা জারি উদাহরণ দেয়া হোক না কেন সেখানে আপনি বর্তমান, তাই সেখানে আপনার থাকাটা সব থেকে জরুরি আপনি সুরক্ষিত থাকলে সবাই সুরক্ষিত থাকবে। 

চানক্য বলেছেন যে আমাদের সবসময় ধনসম্পত্তি রোজগার করা প্রয়োজন যদি আমরা তা না করি তাহলে আমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ যে সম্পদ আগে থেকে আমাদের কাছে রয়েছে তা শেষ হয়ে যাবে।

আপনাকে একটি আমি উদাহরণ দিচ্ছি ধরনের বিপদের মধ্যে জল রয়েছে এবং সেখান থেকে আপনি জল নিয়ে নিচ্ছেন। তাহলে পটের সমস্ত জল খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে।

যদি এই লোকটিকে আমরা সামারাইজ করি তাহলে দেখতে পাব :- 

১. ভবিষ্যতের জন্য আমাদের ধনসম্পত্তি রোজগার করতে হবে।

২. এই ধনসম্পত্তি দিয়ে আমাদের পরিবারকে বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করতে হবে এবং বিশেষ করে নিজের স্ত্রীকে রক্ষা করতে হবে। 

৩. নিজের বিপদ উপস্থিত হলে সেখান থেকে সবকিছু পরিত্যাগ করে চলে যাওয়া দরকার পরিত্রান পাওয়ার জন্য। 

৪. অর্জিত ধন-সম্পদ থেকে খরচ না করে সেটা ইনকামের কাজে লাগানো উচিত। এবার এই সূত্রে আমি আর একটা কথা বলতে চাই যদি আমাদের উত্তরাধিকারসূত্রে ধনসম্পত্তি পেয়ে থাকি তাহলে আমাদের তা খরচ না করে নিজের ইনকাম করা প্রয়োজন। 

এবার আমি অপর একটি শ্লোকে চলে যাব চাণক্য বলেছেন সেই দেশে বসবাস করা উচিত নয় যেখানে আমাদের কেউ সম্মান করে না, যেখানে আমাদের কোনো বন্ধু নেই, যেখানে আমাদের রোজগারের কোন অসুবিধা নেই এবং যেখানে আমরা কোন জ্ঞান অর্জন করতে পারবোনা, যেখানকার মানুষজন আইনকে বা প্রশাসনকে ভয় পায় না।

যারা জ্ঞানী বুদ্ধিমান তারা সবসময় বসবাস করার আগে অনেক গুলি জিনিস দেখে নেয়। চাণক্যের মতে আপনার সেই সব জায়গায় বসবাস করা উচিত যেখানে আপনার উপার্জনের জায়গা রয়েছে যেখানকার মানুষজন আইনে ভয় পায় যেখানকার মানুষজন আপনাকে সম্মান করে যেখানে আপনার বন্ধু রয়েছে এবং যেখানে আপনি নিজেকে সুরক্ষিত মনে করবেন। 

যদি এমন না হয় তাহলে আপনি রোজ হীনমন্যতায় ভুগবেন কোন কাজ করতে গেলে আপনি লোকলজ্জার মুখে পড়বেন তাই সব সময় এই জিনিসগুলো দেখে নেওয়া অবশ্যই দরকার। নিজের ইমেজকে ঠিক রাখার জন্য অবশ্যই সর্বদা মাথা উঁচু করে বাঁচার জন্য। 

চাণক্যের এই বাণী গুলি যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে আপনার জীবনে চলার পথে অনেক সহজ এবং সরল হয়ে যাবে এবং আপনি নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন এবং নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *