চিন্তা থেকে মুক্তি

একজন শিক্ষক বা শিক্ষার্থী বা কোনো ব্যবসাদার মানুষই জানেন যে জীবনে কিরূপ সমস্যা রয়েছে। আপনি যত বড় জ্ঞানী ব্যক্তি হন না কেন আপনি কি বলতে পারবেন আপনার ছেলের পড়াশোনার চাপ কতটা রয়েছে ? পরবর্তী পরীক্ষায় আপনার ছেলে কতটা ভালো ফল পাবে এইসব নয় বাদই দিলাম কতজন ছেলে মেয়ে বলতে পারবে যে তার বাবা শেষবার কবে নতুন জামা কিনে ছিল ? না এই প্রশ্নগুলো কোনটার উত্তর আমরা দিতে পারব না ।

আমরা কেউই বাস্তব জগতে নেই আমরা সবাই রয়েছি স্বপ্নের জগতে আপনি যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন আপনার বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত আপনার পরিবার আপনার জন্য অপেক্ষা করে সেটা কি আপনি জানেন?

আজ এখনই সিদ্ধান্ত নিন, যদি আপনার চিন্তা দূর করতে চান তাহলে সেই গোড়া থেকেই বাদ দিয়ে দিতে হবে আপনার চিন্তাভাবনা ডাকে। কেন অভিনয় করে চলেছেন জীবনের সঙ্গে ? প্রত্যেকটা মুহূর্ত কেন নিজেকে আটকে রাখছেন ? কাকে ঠকাচ্ছেন আপনি ? নিজেকে ? অভিনয় করা বন্ধ করুন, চিন্তা আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে।

আমরা আজ হাসতে ভুলে গেছি , আমরা অভিনয়ের সুযোগে হাসি কিন্তু অভিনয় তো যাত্রাতে হয় থিয়েটারে হয় আর আমরা সেটা নিজেদের জীবনের সাথে জড়িয়ে নিয়েছি । আমাদের পরিবারের সাথেও আমরা অভিনয় করে চলেছি, অভিনয় করা বন্ধ করুন।  

আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি বলুন তো আপনি লাস্ট কবে হেসেছিলেন মনে আছে? আরে মনে থাকবে কি করে আপনি তো অভিনয় করতে করতে ভুলেই গেছেন যে আপনার একটি জীবন ও আছে।

এই পৃথিবীটা আয়নার মত আপনি যা কিছু দেবেন তার দশগুণ হয়ে আপনার কাছে ফিরে আসবে । আচ্ছা কেউ যদি আপনার প্রশংসা করে আপনার কেমন লাগবে ? কোন কিছু না দিলে আপনি আশা রাখবেন না কোন কিছু পাওয়ার। 

আপনি সবসময় বলে বেড়াচ্ছেন আপনার পরিবার ভালো না বিভিন্ন কমপ্লেন করে বেড়াচ্ছে । আপনি লক্ষ্য করুন আপনার পরিবারের প্রত্যেকটা সদস্যের কোন কোন দিক ভালো রয়েছে কিছু তো ভালো থাকবে কিছুতো গুন আছে একবার তাদের প্রশংসা করে দেখুন আপনার পরিবার আবার হাসিখুশি হয়ে উঠবে আর আপনিও মিথ্যে হাসি না হেসে তাদের হাসি দেখে সত্যি হাসতে শিখে গেছেন এবং আপনার মধ্যে শান্তির নদী বয়ে চলেছে।

অর্থ উপার্জনের হাজার কৌশল রয়েছে এই সমস্ত কৌশল আয়ত্ত করা খুবই সহজ । কিন্তু যেখানে আপনি এই ভাবনাগুলি রাখবেন সেখানে যদি আপনার দুঃখ চিন্তাভাবনা জায়গা জুড়ে বসে থাকে তাহলে আপনি সেই সমস্ত ভাবনা রাখবেন কোথায় ?

আমি একটা উদাহরণ এর সঙ্গে সবটা বুঝিয়ে দিচ্ছি :- আপনার একটি বন্ধুর বিয়েতে আপনি অতিথি হয়ে গেলেন , সেখানে আপনার একটি পছন্দের খাবার তৈরি হয়েছে এবং সেটি আপনার প্লেটে দেওয়া হলো কিন্তু সেদিন আপনার পেটের সমস্যা থাকে, আপনি কি খেতে পারবেন ? যদি আপনার উত্তর আসে না তাহলে আপনি আপনার মাথার মধ্যে যতক্ষণ না পর্যন্ত ওই হিংসা, চিন্তা অন্যকে দোষারোপ করা, ঘৃণা করা এই সমস্ত ভাগগুলি সরিয়ে না রাখেন তাহলে আপনার মনের মধ্যে টেনশন বাসা বেঁধে থাকবে, কোনদিনই গুলি ঠিক হবে না।

আর এগুলা ঠিক না হলে ভালো কিছু আপনার মাথার মধ্যে প্রবেশ করবে না। নিজেকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনুন আপনার সামনে যারা রয়েছে তাদের ভালবাসুন , দেখবেন জীবনটা অনেক সুন্দর এবং আপনি চিন্তা মুক্ত থাকবেন । সমস্ত দোষ ক্ষমা করে দিন এতে আপনি সুস্থ মস্তিষ্কের মালিক হতে পারবেন প্রশংসা করুন দেখবেন তাদের হাসিতে আপনি নিজের হাসি খুঁজে পাবেন এবং আপনি আপনার চারপাশের মানুষদের ভালবাসুন তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে শুরু করুন আপনি ঠিক তেমন ব্যবহার ফেরত পাবেন।

এটি হলো চিন্তাভাবনা মন থেকে সরিয়ে দেওয়ার সব থেকে সহজ উপায় ।চেষ্টা করে দেখুন ফলাফল আপনার সামনে মিরাক্কেল এর মত ধরা দেবে । আমি কথা দিচ্ছি আপনি চেষ্টা করে দেখুন ফল পাবেনই পাবেন , 

এছাড়া আরো কয়েকটি পয়েন্ট আছে :- 

১. যেমন হাসতে থাকুন হাসি এটি দুঃখ ভোলার শেষ উপায়।

২. বাস্তবটাকে মেনে নিতে শিখুন।

সবকিছুর ক্ষয় আছে সৃষ্টি আছে। সবকিছুই চলমান। আমরা যেমন মৃত্যুটাকে আটকাতে পারব না তেমন সুখটাকেও আমাদের বেছে নিতে হবে , এটাই বুদ্ধিমানের কাজ এবং সেখান থেকেই আমাদের জীবনের চলার পথ তৈরি করা উচিত ।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *