সফলতা তোমার মধ্যেই রয়েছে। 

যদি সফল হতে চাও তাহলে নিজেকে জাগরিত করো, নিজেকে জাগিয়ে তোলো সমাজের কাছে।

আজ আমি আপনাদের এমন একজনের কথা বলব যার কথা হয়তো আপনি শুনেছেন, তার নাম হলো J. K. Rowling. 

এবং যদি আপনি J. K. Rowling এর নাম নাও শুনে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই “HARRY POTTER” এই নামটি শুনেছেন। 

হ্যাঁ “HARRY POTTER” এর লেখিকা J. K. Rowling এর সেই হতাশা দুঃখময় জীবন, সফলতা এবং তার অনুপ্রেরণা মূলক কিছু গল্প আপনাদের কাছে আজ তুলে ধরবো।

মায়ের মৃত্যুর পর এই লেখিকা প্রচণ্ড হতাশা এবং একাকিত্বে ভুগতে থাকে। তার হতাশায় জর্জরিত হওয়ার কারণে তিনি Harry Potter নামক এই গল্পটি তৈরি করেন। হতাশার তীব্রতা কাটিয়ে তার জন্য পর্তুগাল একটি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। নিজের এই অবস্থা কাটিয়ে ওঠার পর “HARRY POTTER” লেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তারপর তিনি পর্তুগালে পাড়ি দেন। 

কিন্তু ভাগ্য তার সঙ্গ দিলো না, তিনি একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পরলেন। সেই সম্পর্ক টেকেনি কিন্তু তিনি একটি শিশু কন্যার জন্ম দেয়, তার ভরণপোষণের দায়িত্ব তাকেই নিতে হয়। সংকল্পের কোনটাই তিনি পূরণ করতে পারলেন না। উল্টে ওনার জীবনে আরও হতাশা এবং আরো কষ্ট এসে হাজির হলো।

কোনদিন খেয়ে, কোনদিন আধপেটা থেকে বা কোন দিন না খেয়ে তিনি জীবন যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন কিন্তু লেখার প্রতি কোন দূর্বলতা সৃষ্টি হয় নি তিনি লেখার কাজ চালিয়ে গেলেন।

নিজের সেই ছোট্ট শিশু কন্যাটিকে যত্ন করা তার সমস্ত দায়িত্ব নেওয়া এবং তাকে ভালোবাসা, এই সমস্ত কিছু তিনি খুব সুন্দরভাবেই করতেন।

এই সমস্ত কিছু করার পর ও তিনি সময় বের করে নিজের কাহিনীটিকে সম্পূর্ণ করলেন যার নাম হল “HARRY POTTER”। প্রথম তিনটি চ্যাপ্টার লিখে তিনি প্রকাশকের কাছে যান এবং সেই তিন পাতা গল্প পড়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই তাকে রিজেক্ট করে দেওয়া হয়। তিনি হার মেনে নেওয়ার মধ্যে ছিলেন না তিনি তার পরেও পর পর 12 জনের কাছে সেই কাহিনীটি নিয়ে গেলেন কিন্তু প্রকাশকদের দাবি হলো এই গল্প যদি প্রকাশিত হয় তাহলে তাদের প্রচন্ড লোকসান হয়ে যাবে। কিন্তু তারপরও তিনি হার মানলেন না। অবশেষে “বলোম্স মারির” প্রকাশক এটিকে পড়লেন এবং এটিকে ছাপলেন। আর তারপরেই শুরু হয়ে গেল ইতিহাস। 

“HARRY POTTER” এই সিরিজ বিক্রি করে তিনি বর্তমানে 770 কোটি মার্কিন ডলারের মালকিন। এবং তিনি বিশ্বের প্রথম ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ঘোষিত হয়েছিলেন। 

HARRY POTTER এর 45 কোটি কপি আজ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে, তার সফলতার সূত্র হিসেবে আমাদের কাছে কিছু অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য তিনি বলেছেন। যেগুলো আমরা মেনে চললে আমরাও সফলতা পেতে পারি আমরাও সাকসেসের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছতে পারি। 

তিনি বলেছিলেন পৃথিবী কে পাল্টানোর জন্য আমাদের ম্যাজিকের দরকার নেই, প্রয়োজনীয় সব শক্তি আমাদের ভেতরেই রয়েছে। সেই শক্তিকে আমাদের মধ্যে উত্তম ভাবে কাজে লাগাতে হবে, আসলে আমরা প্রকৃত যোগ্যতার থেকে অনেকটা বেশি প্রকাশ করতে পছন্দ করি, আমাদের যতটা যোগ্যতা রয়েছে আমরা তার থেকেও বেশি লোকের সামনে তুলে ধরি। এটাই হলো আমাদের সব থেকে বড় দোষ। 

একজন মানুষ কেমন তা যদি জানতে চান তাহলে নিম্নপদস্থ দের ব্যবহার ভালো করে খেয়াল করুন, তার সমপর্যায়ে এবং তার থেকে উঁচু পর্যায়ের মানুষদের সাথে তার ব্যবহার দেখে তাকে চেনা যায় না। 

যদি আমার কাছে সুখী হওয়ার কৌশল জানতে চান, তাহলে আমি বলব এর প্রথম ধাপ হলো আপনি পৃথিবীতে সব থেকে বেশি কি করতে ভালোবাসেন তা খুঁজে বার করুন, 

আর দ্বিতীয় এমন কাউকে খুঁজে বার করুন যে আপনার সেই কাজটি করার খরচ জোগাতে পারবে। নির্ভীকতা আমাদের অনেক শত্রু তৈরি করে, কিন্তু শত্রুর থেকে বন্ধু তৈরি করে অনেক বেশি। 

আমি অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি এটা সত্যি কিন্তু আমি সেই কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছি,এবং নিজের কঠিন সময় কে হারিয়ে আজ আমি সুখে রয়েছি। আপনার এই পৃথিবীতে অনেক কিছু সুন্দর জিনিস দেখা এখনো বাকি এইসব দেখার সুযোগ আপনি কখনো হারাবেন না। সফলতা পাওয়ার আগে আমি ছিলাম সব থেকে বড় ব্যর্থ মানুষ কিন্তু আমি হাল ছেড়ে দেয়নি আর এটি আমাকে সফল বানিয়েছে। 

তাহলে এবার আর চিন্তাভাবনা না করে ঘুরে দাঁড়ান, উঠুন এগিয়ে যান নিজের স্বপ্নের দিকে এবং হার মানবেন না।

হেরে যাওয়া মানুষদের এই দুনিয়াতে কোন মূল্য নেই, শুধু নিজের নয় আপনি নিজের পরিবারের জন্যও নিজেকে সফল করুন। 

নিজের লক্ষ্যকে স্থির রাখো তুমি সফল হবেই হবে।