কোথায় বাসস্থান নির্মাণ করা উচিত

সেই সমস্ত দেশে বসবাস করা উচিত নয় যেখানে আপনাকে কেউ সম্মান করে না। যেখানে অর্থ উপার্জনের কোন ব্যবস্থা নেই, যেখানে শাসক নেই, যেখানে চিকিৎসক নেই। চাণক্য বা কৌটিল্য যার দূরদর্শ চিন্তাধারা এমন কিছু শ্লোক আমাদের সামনে তুলে ধরেছে যার দ্বারা আমরা বসবাসের জায়গায় স্থির করতে পারব।

আপনি যদি ভেবে থাকেন পার্মানেন্টলি কোথাও গিয়ে বসবাস করবেন তাহলে অবশ্যই চাণক্যের এই বাণী গুলি আপনার জেনে রাখা জরুরি। বাসস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্যই হোক বা নিজের সুরক্ষার জন্যই হোক। সঠিক জায়গায় বাসস্থান আমাদের শান্তি দান করতে পারে। আমরা সর্বদাই বাসস্থান অন্যত্র নির্মাণ করি সেই সময় আমাদের একটা কথা অবশ্যই মনে রাখা দরকার। 

প্রথমত অর্থ উপার্জনের জায়গা আছে কিনা যদি অর্থ উপার্জনের জায়গা না থাকে সেরকম সুবিধা না থাকে তাহলে সেখানে বসবাস করার কোন মানেই হয়না। আমাদের বেঁচে থাকতে গেলে অর্থের প্রয়োজন আর যদি আমার বাসস্থানের কাছে যদি আমি অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা না করতে পারি তাহলে সেখানে থাকার কোন মানেই হয় না। 

দ্বিতীয়ত বসবাসের জায়গায় যানো শাসক অর্থাৎ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ থাকে। যেখানে প্রশাসকের শাসন থাকে না সেখানকার মানুষ খারাপ কাজ আর অপরাধ করে এবং সেই অপরাধের শিকার যে একদিন আমরা হবো না তাকে বলতে পারে। তাই আমাদের অবশ্যই সেখানে বসবাস করা দরকার যেখানে প্রশাসনের শাসক আছে যেখানকার মানুষেরা আইন কে ভয় পায়। 

এবার আসি আর একটা বিষয় যেটা বসবাসের জায়গার আশেপাশে দেখে নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। আমরা যেখানে বসবাস করব সেখানে চিকিৎসক আছে কিনা সেই বিষয়ে কিন্তু আমাদের নজর রাখতে হবে। 

আমাদের শরীর যেকোনো সময় খারাপ হতে পারে, আমাদের জীবনের মধ্যে রয়েছে জ্বরা, ব্যাধি, মৃত্যুর প্রকোপ। এগুলোকে তো এড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু এইসব থেকে বাঁচার জন্য ডাক্তারের উপস্থিত একান্তই প্রয়োজন। 

তাই সেই সব স্থানে বসবাস করবো আমরা যেখানে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা বর্তমান রয়েছে। 

চাণক্য বলেছেন সেই সব জায়গায় বসবাস করা দরকার যেখানে একটি নদী বর্তমান এবং একজন ধনবান ব্যক্তি রয়েছে। 

কিন্তু কেন তিনি একথা বলেন? দেখুন নদী মানুষের জীবনে অতীতকাল থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নদীর জলে সেচ কার্য হয় যার ফলে ফসল উৎপাদন করা যায়। বর্তমানে আধুনিক যেসকল কারখানা তৈরি হয়েছে যেসব যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে তাও কিন্তু নদী কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। তাই নদীর প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

আরেকটি বিষয় বলব যেখানে আপনি বসবাস থাপন করবেন সেখানে আগে থেকে দেখে নেবেন যে কোন ধনবান ব্যক্তি সেখানে থাকে কিনা। সবসময় মানুষের কাছে টাকা পয়সা থাকে না যদি আপনার বাসস্থানের আশেপাশে কোন ধনবান ব্যক্তি থাকে তাহলে বিপদের সময় আপনি তার থেকে লোন নিতে পারবেন কোন কিছুর বিনিময়ে। 

যদিও বর্তমানের ব্যাংক ব্যবস্থা এটির অনেক সাহায্য করেছে। তবুও ধনবান ব্যক্তির উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।

যদি কখনো রাত কালে আপনার বিপদ হয় বা কোন প্রয়োজন পড়ে সে ক্ষেত্রে তো আপনি ব্যাংক ব্যবস্থা পাবেন না তখন আপনি সেই ধনবান ব্যক্তি থেকে সাহায্য নিতে পারেন। 

একটি বুদ্ধিমান ও জ্ঞানবান মানুষের সেখানে যেতে নেই যেখানে কোন মানুষ প্রশাসনকে ভয় পায় না। কোন কিছুতে ভয় বা লজ্জা তারা পায় না যদি সেখানকার মানুষেরা এরকম হয় যে তারা কোন কিছুতে ভয় এবং লজ্জা পায় না তাহলে তারা কিন্তু কোন সময় আপনার ক্ষতি করে দিতে। 

এইসব জায়গায় বসবাস করলে সর্বদা নিজেকে সুরক্ষা হিনা মনে হবে।

মনে রাখা অত্যন্ত জরুরী বোকা অবুঝ মানুষদের মধ্যে থাকা একদমই উচিত নয়, যদি বসবাস করার কথা ভাবেন বা বন্ধুত্ব করার কথা ভাবেন তাহলে কখনোই বোকা মানুষদের সাথে বসবাস করবেন না এবং বোকা মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব ও করবেন না। 

মনে রাখবেন মূর্খের অশেষ দোষ এরা যেরকম নিজেকে ভালো রাখতে পারে না যেমন অপরকেও ভালো থাকতে দেয় না। একদিকে যেরকম আপনার জ্ঞান নষ্ট করবে অপরদিকে আপনার বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। 

দেখুন জীবন অনেক মূল্যবান একটি ছোট্ট পদক্ষেপে আপনার জীবনে নেমে আসতে পারে অন্ধকারের ছায়া। এই অন্ধকার কে দূরে সরিয়ে আলোর প্রদীপ জ্বালতে চাণক্যের উপদেশ গুলি শোনা এবং জানা অবশ্যই দরকার। এবং তা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। 

চাণক্যের এই বাণী গুলি যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার বাসস্থান কি সঠিক জায়গায় নির্মাণ করতে পারবেন এবং সমস্ত বিপদ থেকে নিজেকে আগে থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন। 


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *