কে হতভাগ্য ?

চাণক্য বা কৌটিল্য ভারতবর্ষের ইতিহাসে যার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা। সেই মহান চাণক্য বিষ্ণুগুপ্তের বা কৌটিল্যের মহান কিছু বানী আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

নিচু প্রজাতির লোক ধন-দৌলত কামনা করে, মধ্যম প্রজাতির লোক সম্মান ও দৌলত চায়, কিন্তু উত্তম প্রজাতির লোক সম্মান চায় কারণ তারা জানে সম্মানই হলো মানুষের একমাত্র সম্পদ।

প্রদীপ অন্ধকারকে ভক্ষণ করে এই কারণেই তার কালো ধোঁয়া বের হয়। মানুষ যে প্রকার সামাজিকতা অর্থনৈতিক এবং স্বাস্থ্যের জ্ঞান আরোহন করে সেই প্রকার জ্ঞান প্রদান করে।

“হে বিজ্ঞান পুরুষ নিজের সম্পত্তির প্রয়োজন সম্পূর্ণ হলে, সঠিক পাত্রে দান করুন”। যেমন বর্ষা তার বৃষ্টি জল পৃথিবীর মানুষের প্রয়োজন মেটানোর পর সমুদ্রকে আবার ফিরিয়ে দেয়। শরীর মালিশ করার পর, শ্মশানের চিতা জ্বালানোর পর, সঙ্গম করার পর, চুল দাড়ি কাটার পর, স্নান করা উচিত কারণ এই কাজগুলি করার পর সে চন্ডাল হয়ে যায়।

জল ও অপাচ্যকে পাচ্যে পরিণত করার ঔষধ, জল চৈতন্যকে ফিরিয়ে আনতে পারে কিন্তু ভোজনের পর এই জল পান করা বিষ পান করার সমান। জ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ না করলে তা নষ্ট হয়ে যায়। জ্ঞানহীন ব্যক্তি নষ্ট হয়ে যায়। সেনাপতি বিহীন সেনা নষ্ট হয়ে যায়, পতি বিহীন স্ত্রী নষ্ট হয়ে যায়।

সেই ব্যক্তি সবথেকে হতভাগ্য যে নিজের স্ত্রীর মৃত্যু দেখে। সেই ব্যক্তি সবথেকে হতভাগ্য যে নিজের সমস্ত সম্পত্তি আত্মীয়কে সঁপে দেয়। সেই ব্যক্তি সবথেকে হতভাগ্য যে খাওয়ার জন্য অপরের ওপর নির্ভর করে।এইসব কাজের কোন মূল্য নেই যোগ্য না করে মন্ত্র উচ্চারণ করা, দান না করে যজ্ঞ করা, পরিপূর্ন সফলতা কেবলমাত্র ভক্তি ও জ্ঞান আরোহণের দাঁড়ায় পাওয়া যায়।

সংযম সমস্ত তপস্যার থেকে বড়, লোভ সমস্ত রোগের থেকে ভয়ঙ্কর, দয়া সমস্ত গুণের থেকে বড়। ক্রোধ হলো একজন স্বাক্ষাৎ যম। তৃষ্ণা নরকে নিয়ে যাওয়া একমাত্র বৈতরণী। জ্ঞান হলো স্বর্গের পথ এবং সন্তুষ্টি হলো একমাত্র নন্দন কানন। নীতিভ্রষ্ট হলে সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়, হিনা আচরণ পরিবার কূল কে নষ্ট করে, পরিপূর্ণ অধ্যায়ন না করলে বিদ্যা নষ্ট হয়। তেমনি সঠিক বিনিয়োগ না করলে ধন নষ্ট হয়।

পৃথিবীতে সমর্পিত জল সবথেকে শুদ্ধ, যে পত্নী পরিবারে নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পন করে সে সব থেকে শুদ্ধ, যে রাজা প্রজাদের কল্যান করে সে সব থেকে শুদ্ধ, ব্রাহ্মণ সর্বদা সন্তুষ্ট থাকে সেসব থেকে শুদ্ধ।

যদি বুদ্ধিমান ও জ্ঞানবান না হও তাহলে উচ্চ কুলে জন্ম নিয়ে কি লাভ? নিচু কূলে জন্ম নিয়ে যদি জ্ঞান আরোহন করা যায় তাহলে তাকে দেবতারাও সম্মান করে। বিদ্বান মানুষকে সকলে সর্বদা সম্মান প্রদর্শন করে। বিদ্বান মানুষকে সব দেশেই পুজো করা হয় কথায় আছে “বিদ্বান মানুষ সর্বত্রই পূজিত”।

চাণক্য নীতি গুলো যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে অবশ্যই আপনি জীবনে সাফল্য পাবেন এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন, কারণ চাণক্যের বাণী গুলি তিনি সকলের মঙ্গল কামনায় রচিত করে গেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *