কে মূর্খ ?

প্রথম পর্যায়ে নিয়ে যেটি আলোচনা করব সেটি মহাত্মা বিদুরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বর্ণনা। তিনি বলেছিলেন কিভাবে মূর্খ ব্যক্তিদের চেনা যায়।

যে ব্যক্তি কোন কার্য করার পূর্বে নিজের ক্ষমতা যোগ্যতা সম্পর্কে চিন্তা করে না সে এক প্রকার মূর্খ ব্যাক্তি। তাদেরকে মূর্খ বলা হয় যাদের অর্থ-সম্পদ না থাকলেও বড় বড় জিনিসপত্র কেনার আগ্রহ দেখায়। যেই সমস্ত মানুষ কঠোর পরিশ্রম ছাড়া এ সফলতা পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তাদের মূর্খ বলে।

যে ব্যক্তি কোন প্রকার কাজের লাভ-লোকসান না দেখেই সেই কাজের সাথে যুক্ত হয়ে যায় তাকে এক প্রকার মূর্খ ব্যক্তি বলা হয়। যে ব্যক্তি অপরের কোন বিষয়ে নিজেকে যুক্ত করে , যে ব্যক্তি পরামর্শদাতাদের সাথে প্রতারণা করে তাকে মূর্খ ব্যক্তি বলা হয়।

সেই সমস্ত ব্যক্তি কে মূর্খ বলে যারা সেই জিনিস চাই যেটা পাওয়ার যোগ্য নয় বা যেটা সে কখনোই পেতে পারে না। এবং তার কাছে থাকা বস্তুকে সে হারিয়ে ফেলে। মহাত্মা বিদুর বলেছেন যে ঐ সমস্ত ব্যক্তি খুবই মূর্খ যারা নিজেদের থেকেও বেশি শক্তিশালী ব্যক্তিদের সাথে শত্রুতা করে।

সেই ব্যক্তি সবথেকে বেশি মূর্খ যে ব্যক্তি যাদের সাথে থাকা দরকার সব থেকে বেশি তাদের থেকে দূরে থাকে এবং যাদের সাথে একদমই মেলামেশা করা উচিত না তাদের সাথে সবসময় থাকে। আরেক ধরনের মানুষকেও বোকা বলা হয় মূর্খ বলা হয় যে মানুষরা এমন কাজ করে যেটা করা কখনোই কোনো বুদ্ধিমান জ্ঞানী ব্যক্তির করা উচিত নয়।

বিদুর বলেছে যার কাজের প্রতি উদ্দম থাকেনা যে নিজের কাজের পরিকল্পনা সকলের কাছে বলে বেড়ায়, যেকোনো কাজ নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী করে না এবং যে সকলের অতি প্রয়োজনীয় কাজটি করতে দেরি করে সেই সবথেকে মূর্খ ব্যক্তি। যে ব্যক্তি বড়দের সম্মান করে না, যে ব্যক্তি প্রকৃত বন্ধু করতে অক্ষম হয়, যে ব্যক্তি সৃষ্টিকর্তাকে মানে না সে একজন মূর্খ ব্যক্তি। যে ব্যক্তি বিনা নেমন্তন্নে পৌঁছে যায়, কোন কিছু না ভেবে অপ্রয়োজনীয় কথা বলে এবং তাদের বিশ্বাস করে যাদের বিশ্বাস করা উচিত নয় তাকে মূর্খ ব্যক্তি বলা হয়।

যে ব্যক্তি নিজের দোষ দেখতে পায় না সর্বদা অন্যকে দোষ দেয় এবং বিনা কারণে হঠাৎ রেগে যায় এবং রেগে গিয়ে একটি ভুলভাল কাজ করে বসে সেই ব্যক্তি সবথেকে বড় মূর্খ। যে সমস্ত ব্যক্তি নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে কোন ধারণা রাখে না এবং যে সমস্ত ব্যক্তি আপন ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং যে সমস্ত ব্যক্তি অবাস্তব এবং অবান্তর ঘটনা ঘটাতে চায় তারা হচ্ছে প্রকৃত মূর্খ ব্যক্তি।

যে ব্যক্তি এমন একজনকে শিক্ষা দেয় যার শিক্ষা নেওয়ার যোগ্যতা নেই এবং বোঝার ক্ষমতা নেই সে এক প্রকার মূর্খ ব্যক্তি হয়। যে ব্যক্তি উদ্দেশ্য ও লাভজনক কাজ করে না অর্থাৎ এমন কাজ করে যে কাজে কোন মুনাফা নেই সে ব্যক্তি এক প্রকার মূর্খ ব্যক্তি হয়। যে ব্যক্তি এমন ব্যক্তিদের সাহায্য করে যার থেকে কোন সাহায্য পাওয়া বা প্রতিদান পাওয়া আশা করাই যায় না সেও এক প্রকার মূর্খ ব্যাক্তি।

আজ মহাভারতের বিদুর নীতি থেকে নেওয়া কিছু মূল্যবান বাণী আমার আপনাদের আমি শোনালাম আশা করব এই বাণী গুলি যদি আপনারা মেনে চলে তাহলে আপনাদের জীবনের পথ মসৃণ তৈরি হবে এবং অবশ্যই আপনারা জীবনে সাফল্য পাবেন এবং নিজেদেরকে খারাপ ছায়া থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *