কে বুদ্ধিমান?

আজকে আপনাদের ভিতরে নীতির চতুর্থ অধ্যায়ের আমি শোনাবে। বাস্তব জীবনে চলতে গেলে আমাদের অবশ্যই বিদুর নীতি গুলি মেনে চলা প্রয়োজন। মহাকাব্য মহাভারত’ থেকে নেওয়া মহাত্মা বিদুরের নীতি বাক্য থেকে এমন কিছু বর্ণনা আপনার সামনে তুলে ধরব যা প্রত্যেকটি বুদ্ধিমান বাস্তবসম্মত মানুষের মধ্যে বর্তমান থাকে এবং যদি কেউ বুদ্ধিমান বাস্তববাদী হতে চায় তবে এই নীতি গুলি পালন করতে হবে।

যে ব্যক্তি নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন, যে ব্যক্তি কোন কাজ গুরুর পূর্বে সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ করে নেয়, সে ব্যক্তি কোন কাজ করতে গিয়ে পিছিয়ে পড়ে না, যে ব্যক্তি কোন কার্য করার সময় কোন লোভের বশীভূত হয় না, এই ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে বাস্তববাদী ও বুদ্ধিমান। যে ব্যক্তি সঠিক কাজ কে আপন করে নেয়, যে ব্যক্তি খারাপ পথকে ত্যাগ করে, যে ঈশ্বরের উপর শ্রদ্ধা করে এবং যে কোন কাজ করলে সেটি সততার দ্বারা সম্পূর্ণভাবে করে। তাদের বুদ্ধিমান বলা হয়।

এ কথা না বললেই নয় তিনি আস্তিক বলতে এটা বুঝিয়েছেন ভাবনার ওপর বিশ্বাস রাখা। কিন্তু এটা বলেনি আপনি সবকিছু ছেড়ে দিয়ে ভগবানের ভরসায় বসে থাকুন। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে হাত পা চোখ মুখ ক্ষমতা বুদ্ধি দান করেছেন। এই উপাদানগুলি কাজে লাগিয়ে ভালো কিছু করুন ভালো কিছু ভাবুন।যারা এটা করে তাদেরকে প্রকৃতপক্ষে আস্তিক বলা হয়।

যে ব্যক্তি কোন কাজ রেগে গিয়ে সম্পূর্ণ করে না, কোন আবেগের বশবর্তী হয়ে সম্পন্ন করে না, কিংবা ইগোর বশবর্তী হয়ে সম্পন্ন করে না, যারা সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথায় ভেবে চিন্তে বিবেচনা করে কাজ করে তারাই হচ্ছে আসল বুদ্ধিমান ব্যক্তি। তাদেরকেই প্রকৃত বুদ্ধিমান ব্যক্তি বলা যায়, যারা নিজেদের গোপন কথা কাউকে বলে না যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই কাজটি সম্পন্ন হয়।

ওই ব্যক্তিকে প্রকৃত বুদ্ধিমান ব্যক্তি বলা হয় যারা কোন কাজ অর্ধেক করে ছেড়ে চলে যায় না সেটা সম্পূর্ণ পরিমাণে করে। যে ব্যক্তি সংসার করে, ধর্মকর্ম করে এবং অর্থ উপার্জন করে এবং সুখে জীবন কাটায় তাকেই প্রকৃত বুদ্ধিমান ব্যক্তি বলে। যে ব্যক্তি নিজের কাজ সম্পূর্ণ দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে করে এবং কার্যক্ষেত্রে কাউকে অপমান করে না। তাকে বুদ্ধিমান বলতে হয়।

যে ব্যক্তি সহজেই কোন কাজ বুঝে ফেলে, দরকারি এবং প্রয়োজনীয় জ্ঞান গুলি পালন করে, না জিজ্ঞাসা করা পর্যন্ত তারা চুপচাপ বসে থাকে তাদেরকে এই প্রকৃত বুদ্ধিমান বলে। কোন দ্রব্য পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, না পাওয়ার ফলে যে ব্যক্তি দুঃখ করে না, যে ব্যক্তি কোন দ্রব্য বা অন্য কোন জিনিস বরবাদ হয়ে গেলেও অধিক দুঃখ প্রকাশ করে না, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে যে ব্যক্তি নিজের লক্ষ্য কে পরিত্যাগ করে না সে সব থেকে বেশি বুদ্ধিমান।

যে ব্যক্তি কোন কাজ করার সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে সেই কাজটি করে দ্বিতীয় কোনো কাজের দিকে মনোযোগ দেয় না সেই সব থেকে বেশি বুদ্ধিমান। যে ব্যক্তি তার থেকে বেশি বুদ্ধিমান মানুষদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং তার থেকে কম বুদ্ধিমান মানুষদের কথা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যায় কিন্তু তাদের সাথে কোনো তর্ক করেনা তাকেই প্রকৃত বুদ্ধিমান ব্যক্তি বলে। যে ব্যক্তি আপ্যায়ন বা সম্মান দান বা কোনরকম অসম্মান করা হলেও কোন পার্থক্য তার মধ্যে লক্ষ্য করা যায় না সেই প্রকৃত বুদ্ধিমান। যে ব্যক্তি তার বিষয়ের ওপর সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখে এবং সেই জ্ঞান অন্যকে দিতে সক্ষম হয় এবং যেকোন জটিল পরিস্থিতিতে সে সম্পূর্ণ ভাবে নিজেকে বের করে আনে সেই আসল বুদ্ধিমান।

যে ব্যক্তি শাস্ত্র বাক্যকে সুন্দরভাবে অধ্যায়ন করে রেখেছে, শাস্ত্র অনুযায়ী সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বোঝে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয় সেই প্রকৃত বুদ্ধিমান। যে ব্যক্তি অধিক অর্থ, অধিক সম্মান, অধিক স্বাধীনতা পাওয়ার পরেও সামান্য বিচলিত হয় না, যার মধ্যে অহংকার জাগরিত হয় না তাকেই বুদ্ধিমান বলে।

আপনি যদি বিদুরের এই নীতি বাক্যগুলি মেনে চলেন তাহলে অবশ্যই আপনি জীবনে সুখী হতে পারবেন এবং অতিরিক্ত লোভ লালসা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *