কিভাবে আপনি সফলতা পাবেন

কাঁচা লোহাকে আগুনে গলিয়ে ইস্পাত তৈরি করা হয় আর সেই ইস্পাত তৈরি করার সময় লোহার একটু আঘাত খাওয়া জরুরি। 

আপনি নিজেকে একটি লোহার সাথে তুলনা করুন এবং আপনাকে সফল হতে গেলে সফলতা অর্জন করতে গেলে কিছু আঘাত তো পেতেই হবে। যদি আপনি সফল হওয়ার পথে কোনো আঘাত না পান কোন বাধা না পান তাহলে সেই সফলতার কোন মানে নেই। আজ আপনাকে আমি কিছু পদ্ধতি বলব যে গুলো অনুসরন করলেই আপনি সফলতা খুব তাড়াতাড়ি পেতে পারেন। 

১. আপনি তার সাথে কখনো পরামর্শ করবেন না যে জীবনে কখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কোনো পরীক্ষা দেয়নি কোন সমস্যার মোকাবিলা করে নি। এবং সে যদি আপনার থেকে বয়সে বড় হয় তবুও আপনি তার সাথে কোনো মতামত শেয়ার করবেন না, কারন সে আপনাকে কোন মতামত দিতেই পারবে না কেননা সে নিজের জীবনে কখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আপনি তার কাছেই পরামর্শ গ্রহন করুন যে জীবনে সফল হয়েছে, বা যে জীবনে ব্যর্থ হয়েছে। যারা জীবনে সফল হয়েছে আপনি যদি তাদের সাথে কোন পরামর্শ করে থাকেন। তবে যে আপনাকে সফলতার কাহিনী শোনাবে। আপনারা সফলতার সব রাস্তা সে দেখিয়ে দেবে এবং আপনাকে উৎসাহিত করবে। যদি আপনি ব্যর্থ মানুষের থেকে পরামর্শ নিতে চান তাহলে আপনাকে এগুলো বলবে যে কোন কোন পথে ব্যর্থতা পেয়েছে বা কোন কোন পথে গেলে আপনি ব্যর্থ হতে পারেন। এবং সেই পথ গুলো যাতে আপনি অনুসরণ না করেন সেই দিক থেকে আপনাকে সাবধান করে দেবে। 

কিন্তু একটা বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে যেই মানুষটির সাথে আপনি আপনার লক্ষ্য আপনার সাফল্য শেয়ার করছেন সেই মানুষটি সঠিক মানুষ তো ? সেটা অবশ্যই যাচাই করে তারপর তাকে আপনি আপনার পরিকল্পনাগুলি শেয়ার করুন। 

২. পরিকল্পনা মাফিক চলুন। যদি জীবনে সফল হতে চান উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত হতে চান, তবে প্রতিটি দিন প্রতিটি ক্ষণ পরিকল্পনামাফিক চলুন। একটি ডায়েরি বা নোটবুক ফলো করুন যেখানে আপনি আপনার কাজের পরিকল্পনা বানান। আপনার কাজের পরিকল্পনা যদি একবার আপনি বানিয়ে ফেলেন তা কোনোভাবেই নষ্ট হয়ে যেতে দেবেন না সেটা কে ফলো করে আপনার দিনটি শুরু করবেন। 

সবার আগে আপনি আপনার পরিকল্পনা কে প্রাধান্য দিন। আপনার কাজের সময় যদি কোন বন্ধু বা প্রতিবেশী বা আপনার পরিবারের কেউ এসে যায় তাহলে আপনি সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে আনুন এবং অন্য জায়গায় বসে নিজের কাজটি আবার শুরু করুন। না বলতে শিখুন এবং আজেবাজে কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে চেষ্টা করুন।  

সর্বদা পরিকল্পনামাফিক কাজে নিজেকে যুক্ত রাখুন, দেখুন কাজ সবাই করে কিন্তু সফল তারাই হয় যারা নিজের পরিকল্পনামাফিক কাজ করে। 

আপনার লক্ষ্য কে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করুন, আর প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে যান। আপনার ডিভিশনকে হিমালয় পর্বতের মত দৃঢ় তৈরী করুন, একমাত্র কোন বিপদ ছাড়াই আপনার সংকল্প থেকে বেরিয়ে আসবেন না। 

৩. প্রতিজ্ঞা করুন :- সফল হতে গেলে আপনাকে প্রতিজ্ঞা করতেইকরতেই হবে। আমি আমার অভিজ্ঞতায় বাস্তব জীবনে যা দেখেছি এবং যাদের যাদের সাথে মিশেছি এবং বই পড়ে যা জেনেছি, তারাই জীবনে সফল হয়েছে যারা নিজেদের জীবনের ডিসিশন নিয়েছে বা প্রতিজ্ঞা করেছে, ডিসিশন নিও খুবই জটিল, দেখুন যারা জীবনে লক্ষ্য স্থির করে না বা পরিকল্পনা করে না আগোছালো ভাবে জীবন কাটায় এটিও একটি ডিসিশন।

মনে রাখবেন আমাদের মস্তিস্ক খারাপ ভুল পার্থক্য এই সব বোঝে না, যখন মানুষটি টিভি দেখে তখন বোরিং হয়না যখন সে বই পড়ে তখন বোরিং হয়। যখন বসে সময় কাটায় তখন বোরিং হয়না যখন সে এক্সেসাইজ করে তখন বোরিং হয়। 

ছোট অফিস ছেড়ে বড় অফিস নেওয়ার সময় সঠিক ডিসিশন নেয় না, মানুষের কোম্পানি রয়েছে, এক্সপার্ট টিম রয়েছে, সেই টিম নিয়োগ করার ক্ষেত্রে সে সঠিক ডিসিশন নেয় না, আপনি হয়তো দেখেছেন আপনার অফিসে নতুন টেকনোলজি প্রয়োজন কিন্তু আপনি সেই ডিসিশন নিচ্ছেন না। 

আপনি দেখছেন কোন এমপ্লয়ি অলস অথবা সে আপনার অফিসের ক্ষতি করতে পারে তবুও আপনি তাকে বাদ দেওয়ার দেখেছেন নিচ্ছেন না। যদি এই ধরনের খারাপ বিষয় গুলি আপনি বন্ধ করতে না পারেন তাহলে চরম সত্যিটা আপনাকে মেনে নিতে হবে যেটা হলো আপনি চরম ব্যর্থতা কে আহবান করছেন। নিজের ব্যর্থতাকে আলিঙ্গন করছেন।

যদি এই তিনটি পয়েন্ট আপনি না মেনে চলেন তাহলে আপনার ব্যর্থতাকে কোনদিনও কেউ আটকাতে পারবে না। অতএব এই পয়েন্টগুলি মেনে চলুন এবং সফলতার দিকে এগিয়ে যায় এবং সাফল্য কে ছুয়ে দেখুন অনুভূতিটা কেমন হয়। 


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *