আপনি কি জানেন কে সুখী

রাজ পরিবারের কাছ থেকে সিষ্টাচার শেখা উচিত পন্ডিতের কাছ থেকে কথা বলার কৌশল শেখা উচিত। জুয়াড়িদের কাছ থেকে মিথ্যা কথা বলার কৌশল শেখা উচিত এবং মহিলার কাছ থেকে ছলনা করার কৌশল সেখায় উচিত।

চাণক্য বা কৌটিল্য যাকে ভারতের মেকিয়াভেলি নামে অভিহিত করা হয়। তার লেখা অর্থশাস্ত্র গ্ৰন্থ থেকে কিছু মূল্যবান বাণী আমি আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

যার গৃহে অন্নসংস্থানের কোন অসুবিধা নেই, সন্তান-সন্ততিরা জ্ঞানী ও গুণী, পত্নী মধুর বাক্যলাপ করে, প্রয়োজনের মতো পর্যাপ্ত ধন বর্তমান। যে নিজের পত্নীর সঙ্গে আনন্দদায়ক সম্পর্ক রাখে সে নিজের অজান্তেই সৃষ্টিকর্তার কৃপা পেয়েছে।

সেই সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ পেয়েছে যার চাকর অনুগত এবং গৃহে মঙ্গল কর্ম হয়। যার গৃহে সুস্বাদু ভজন হয় এবং যার গৃহে আনন্দের বাতাবরণে সর্বদা গড়ে ওঠে।

যে ব্যক্তি বা যারা ঈশ্বরের নাম স্মরণকারী ব্যক্তিদের অল্প দান করে, তার প্রতি ফলে বিপুল লাভ পায়। যে সর্বদা আপন আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি উদার থাকে, অজানা মানুষের প্রতি সহৃদয় মনোভাব প্রকাশ করে। ভালো মানুষের প্রতি প্রেম ভাব প্রকাশ করে।

দিন মানসিকতাসম্পন্ন ও হীন মানুষের সাথে ধূর্ততা পূর্ণ ব্যবহার করে, যে বিজ্ঞানের কাছে সব কিছুই প্রকাশ করে। শত্রুর নিকট সাহস দেখায়, বড়দের প্রতি বিনম্র মনোভাব প্রকাশ করে এবং পত্নীর শহীদ সদায় থাকে সে সর্বদা সুখী হয়।

“ওরে ও শৃগাল তুই ওই দেহ ভক্ষণ করিস না, যে কখনো কিছু দান করে নিই, যার কানে কখনো বিদ্যা পৌঁছায় নিই, যার নেত্রী সত্তিকারের ভক্তি প্রকাশিত হয় না, যার পদযুগল কখনো তীর্থস্থানের উদ্দেশ্যে গমন করে নিই, যে অধর্মের পথে সমস্ত অর্থ উপার্জন করেছে, যার কোন সম্ভল না থাকলেও অহংকার প্রকাশ করে, ওরেও শৃগাল তুই যদি ওই দেহ ভক্ষণ করিস প্রিয় অপবিত্র হয়ে যাবি।

ধিৎকার জানাই ওই সব মানুষ কে যারা সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভক্তি রাখে না, যারা ভগবানের ভক্তদের ধিক্কার জানায়।

কল্পতরু তো একটা বৃক্ষ হয় সুবর্ণ তো পর্বত থেকে সৃষ্টি হয়, মনি তো একটা পাথর, সূর্য তো একটা উত্তপ্ত গোলা, সমুদ্র তো লবণাক্ত জলের সমষ্টি, কামদেবের শরীর-ই তো জ্বলে গেছে, মহারাজ বলি তো রাক্ষস কূলেই জন্মেছিলেন, কামধেনু তো এক পশু, কেবলমাত্র আপন গুণাবলীর দাঁড়ায় আজকের জগতের প্রতিষ্টিত।

ভ্রমণকালে বিদ্যা একমাত্র বন্ধু, বাড়িতে থাকার সময় পত্নী একমাত্র বন্ধু, অসুস্থতায় ঔষধি একমাত্র বন্ধু এবং মৃত্যুর পর কোন কর্ম-ই একমাত্র বন্ধু। যে না বুঝে কোন কার্য করে যে নিজের পত্নীকে খারাপ কাজে প্রেরণ করে, গৃহহীন শিশু যে নিজেকে সর্বদা ঝগড়ার কাজে ব্যস্ত রাখে, যে আচরণের ওপর কোনো খেয়াল রাখে না সে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।

এক বিদ্যান ব্যক্তির খাদ্যের চিন্তা করতে হয় না, অন্ন প্রাপ্তি জন্মগত অধিকার তার উচিত। তার উচিত আপন ধর্মকে সর্বদা রক্ষা করা। যে ব্যক্তি দৌলত অর্জনে চাষবাস করায় বা কার্য করায়, বা বিদ্যা অর্জন করায়, এবং ভোজন করায়, কোন লজ্জা নেই সেই ব্যক্তি সর্বদা খুশি থাকে।

যেমন বিন্দু বিন্দু জল দিয়ে সাগর তৈরি হয় তেমনি বিন্দু বিন্দু জ্ঞান ও গুন দিয়ে বিদ্যান তৈরি হয়। এবং বিন্দু বিন্দু সঞ্চয় দ্বারাই ধনবানের পরিণত হয়।

যে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত মূর্খ থাকে তাকে প্রকৃত মূর্খ বলা হয়, তাদের মূর্খতা স্থায়ী ঠিক যেমন করলা কে যতই মিষ্টি দাও না কেন সে কোনদিনও মিষ্টি হবে না ।

আপনার জীবনের পথে চলতে আপনাকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে চাণক্যের নীতি গুলি যথেষ্ট আপনাকে সাহায্য করবে যদি জীবনের পথে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় যদি ধনবান ব্যক্তি তে পরিণত করতে চান নিজেকে যদি নিজের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে চান তাহলে অবশ্যই চাণক্যের এই নীতি গুলি মেনে চলুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *