আকাঙ্ক্ষা কিভাবে জাগিয়ে তুলবেন

আপনার আকাঙ্খাকে জাগ্রত করার ব্যাপারে আপনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন? যদি আপনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন তাহলে আজকে আমি যে কথাগুলো বলব সেগুলো আপনার জেনে রাখা খুবই দরকার।

আপনি যদি আপনার উদ্দেশ্যকে সিদ্ধ করতে চান তাহলে আপনার অপরের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যাদের উপযোগিতা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তাদের খুঁজে বার করুন,  এরা আপনার আকাঙ্খাকে জাগ্রত করার জন্য মূখ্য ভূমিকা পালন করবেন।

দ্বিতীয়ত আপনি যাদেরকে উপযুক্ত বলে , শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচনা করেন এরকম ২০ জন সফল মানুষদের তালিকা তৈরি করুন।

তৃতীয়ত আপনার আকাঙ্ক্ষা বা ঐকান্তিক ইচ্ছা কে তীব্রতর করে তোলার জন্য কোন কোন বই পড়ার প্রয়োজন হতে পারে সেগুলির একটা নাম তালিকা তৈরি করে।

চতুর্থত দুশ্চিন্তা বা আবেগ শূন্য মানসিকতাকে আপনাকে গ্রহণ করতে হবে। আমরা প্রত্যেকেই কম-বেশি দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগের শিকার হয়ে পড়ি। উদ্বেগি, উৎসাহ, ও সফল মানুষদের সহচার্যে থাকলে এগুলি অনেকখানি দূর হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে আকাঙ্ক্ষাকে অব্যাহত রাখা আদেও সম্ভব নয় এবং এই সমস্ত উপায় অবলম্বন এর মধ্য দিয়ে সাফল্য অর্জন কে অভ্যাসে পরিণত করা সম্ভব।

আপনার কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয়ে আপনি পরবর্তী পর্যায়ে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক সেগুলো যদি যথাযথভাবে আপনি লিখে ফেলতে পারেন সেটাই আপনার উৎসাহ কে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে একজন সহায়কের ভূমিকা পালন করবে। 

যদি আপনি আপনার আকাঙ্খাকে জাগ্রত করে তুলতে চান তাহলে নাইটেঙ্গেল সূত্রগুলো ধরে আপনাকে চলতে হবে। নাইটেঙ্গেল ছিলেন মিলিয়ন ডলার উপার্জনকারী একজন মার্কিন ব্যক্তি তার নীতিবাক্য গুলি আজ আমি আপনার সামনে তুলে ধরবো।

প্রথমত তিনি বলেছিলেন আপনি যে কাজে সবথেকে বেশি আকৃষ্ট বোধ করেন যেমন একটি কাজ নির্বাচন করুন এবং সংশ্লিষ্ট কাজে আনন্দের সাথে 12 থেকে 15 ঘণ্টা সচ্ছন্দে কাজ করুন। আর বাকি সময় কাজের বিষয়ে ভালো ভালো ভাবনাগুলি ভাবুন কিভাবে কাজটি আরো সুন্দরভাবে করা যায় এই বিষয়গুলো ভেবে বাকি সময়টা অতিবাহিত করুন। দেখবেন আপনার সফলতা বা আপনার আগ্রহ বা আপনার আকাঙ্ক্ষা অটোমেটিকলি তৈরি হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত হল ঐকান্তিক আগ্রহ ও গভীর একাগ্ৰতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যে আপনার মনকে সম্পূর্ণভাবে নিবিষ্ট করুন। তাহলে নিশ্চয়ই আপনি সাফল্য পাবেনই পাবেন।

তৃতীয়ত তিনি যেটি বরেছিলেন সেটি হল সফলতা পাওয়ার জন্য ধৈর্যের মত গুনকে আয়ত্ত করাএকান্ত প্রয়োজন। তবে এটা অর্জন করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ, সহজে এটা পাওয়া যায় না। একমাত্র অভ্যাস এবং অনুশীলনের মাধ্যমেই এটি আয়ত্ত করতে পারবে। 

চতুর্থত আপনাকে আমি যেটা বলব সেটি হল আল্স নাইট্র্যঙ্গেলের বিখ্যাত উক্তি সেটি হলো আপনার মূল্যবান সময়ের যথাযথ যোগ্য সৎ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। সর্বদা অপ্রয়োজনীয় বিষয় গুলি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। 

আমাদের জীবনে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সবসময় উপস্থিত হয়ে যায় সেই অপ্রয়োজনীয় জিনিস গুলি কে যত সাইডে রেখে আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন আপনার লক্ষ্য ততো তাড়াতাড়ি সুন্দর এবং সুগঠিত হয়ে উঠবে। 

যে জিনিস গুলি আপনার নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে আপনাকে বাধা দিচ্ছে আটকাচ্ছে সেই জিনিস গুলো কে আপনি এড়িয়ে চলুন জিনিসগুলো থেকে যত পারবেন দূরে থাকুন এবং সেই জিনিস গুলো আপনি ভাবনা চিন্তার বাইরে রাখুন । তাহলে আপনার সফলতা আপনার কাছে আসবে। 

পঞ্চমত মনকে সৃষ্টিধর্মী চিন্তায় নিযুক্ত রাখুন। নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার যোগ্য তথ্য এবং তথ্যগুলিকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনার সফলতা তাড়াতাড়ি উপস্থিত হয়ে যাবে। আমি যে বিষয়গুলো আলোচনা করলাম এগুলো যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে সফলতা চরম শিখরে উঠার থেকে আপনাকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না। 

মনে রাখবেন তীব্র আকাংখার দ্বারা যেমন মানুষ তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তেমনি তীব্র আকাঙ্ক্ষা এমনি একটা শক্তি যে কোন অসাধ্য কে সাধন করতে পারে। আপনার লক্ষ্য সম্পর্কে কি আপনি যথেষ্ট সচেতন? এটা আগে জেনে নিন। আপনার সংশ্লিষ্ট কাজের বিষয় যদি আপনি সুস্ট এবং সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ না করেন তাহলে আপনি কখনোই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। 

অর্থাৎ আপনার আকাঙ্ক্ষা কে আপনি যদি জাগ্রত করতে না পারেন তাহলে আপনার সফলতা কোনদিনও আসবে। আমাদের দেশের সর্ব প্রকার মানসিক শক্তি উৎসাহিত হয় এই আকাঙ্ক্ষা থেকে। আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের আকাঙ্ক্ষার সাহায্যে আমাদের পারিপার্শ্বিক পরিমণ্ডলের অনুকুল পরিবর্তন ঘটাই, তাই আগে আমাদের পরিবর্তন করতে হবে, আগে আমার নিজের আকাঙ্ক্ষাকে পরিবর্তন করতে হবে। তাহলেই সফল হতে পারবেন নিজের লক্ষ্য কে হাসিল করতে পারবেন। 


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *