অজুহাত ত্যাগ কর সফলতা পাবে

অজুহাত ত্যাগ কর  সফলতা পাবে 
মানুষের অনেক পরিবর্তন ঘটেছে, পরিবর্তন ঘটেছে সব্দিকদিয়ে  কিন্তু  সফলতার রাস্তায় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি. আমরা সবাই ধনী নই, কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে বর্তমান সময়ে আমরা সবচেয়ে ধনী প্রজন্মের সদস্য। চিন্তা করে দেখুন, আগের সময়ের পৃথিবীর মানুষের চেয়ে আমরা কত বেশি সুযোগ-সুবিধা লাভ করছি। আমাদের ইন্টারনেট আছে, টিভি আছে, আছে বিদ্যুৎ কিন্তু কিছু পরিবর্তন হয়নি  তা হল শিক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  যে মানসিক দক্ষতা, গাণিতিক যুক্তি, সমস্যা সমাধানের কৌশল, যোগাযোগ দক্ষতা, টিমওয়ার্ক নিয়ে বাস্তব জ্ঞানার্জন হয়েছে; তা কিন্তু অসাধারণ।  এগুলো হল সফলতার সূত্র। এখনো মানুষকে সফল হতে হলে এসব বাস্তব দক্ষতা প্রয়োজন। নিজেকে অন্যের চেয়ে দক্ষ করে তুলতে একাগ্রতার বিকল্প নেই, বিকল্প নেই শিক্ষার। আমরা সমাবর্তনের পর থেকে জীবনে অনেক কিছু অর্জন করেছি।

১.কঠোর পরিশ্রম সৌভাগ্যকে নিয়ে আসে:
সৌভাগ্য নিয়েই পৃথিবীতে কোনো মানুষের জন্ম হয় না। কর্মের মাধ্যমে তার ভাগ্য গড়ে নিতে হয়। পরিশ্রমই সৌভাগ্য কে নিয়ে আসে । উদ্যম, চেষ্টা ও শ্রমের সমষ্টিই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। কঠোর পরিশ্রম আর বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কঠিন কাজও সহজ হয়। জীবনে উন্নতি করতে হলে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। পরিশ্রম ছাড়া কেউ কখনো তার ভাগ্যকে গড়ে তুলতে পারেনি। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী,বুদ্ধিমান, সে জাতি তত বেশি উন্নত ও শক্তিশালী। যদি একবার কোনো কাজ শুরু করেন তবে তা নিয়ে দ্বিধান্বিত হবেন না। সফল হওয়ার অদম্য ইচ্ছা আর পরিশ্রম দিয়ে সেই কাজ করে যান। আমার অভিজ্ঞতায় বলতে আমি বলতে পারি, শিক্ষালয়, কর্মস্থল, পেশাজীবন ও খেলাধুলাসহ জীবনের সর্বত্রই অনেক প্রতিভাবান লোকের দেখা মেলে। কিন্তু মনে রাখবেন, শুধু প্রতিভা দিয়েই সফলতা পাওয়া যায় না. এই রকম অনেক উদাহরন আমার কাছে রয়েছে। একসাথে অনেককিছুর পেছনে ছুটতে গেলে দেখা যায় শেষপর্যন্ত কোনটাতেই আর সফলতা পাওয়া যায় না।সফলতার জন্য প্রতিভার সাথে প্রয়োজন ধৈর্য, প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম। একাগ্রচিত্তে পরিশ্রম করে যান সফলতা একদিন আপনার দরজায় কড়া নাড়বে। যদি আপনি বড় কিছু অর্জনের জন্য যতটা সম্ভব কঠোর পরিশ্রম করে যান এক মনে সফলতা আসবেই। 


২.অতীত নিয়ে বেশি চিন্তা করবেন না:
সব সময় অতীত নিয়ে চিন্তা করবে না. সব সময় অতীত নিয়ে থেমে থাকলে জীবনে কখনো এগোনো যায় না। জীবনে ব্যর্থতা থাকবেই, খারাপ সময় থাকবেই, জীবন নাগরদোলার মতো, কিন্তু সেগুলো নিয়ে সবসময় চিন্তা না করে নিজের উপর ভরসা রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। অতীতের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে কীভাবে ভালো কিছু করা যায় সেই চেষ্টা করুন। তাহলে  সত্যি সত্যিই সফলতার কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন।


3. নিজের কাজ বুঝে নিন:
আপনাকে কী কী কাজ করতে হবে, কীভাবে করতে হবে তা প্রথমে জানুন । তাহলে সহজে তা সম্পন্ন করতে পারবেন। সব পেশার ক্ষেত্রেই কাজকর্মে দেখতে সুন্দর, গোছানো ও পরিপাটি হওয়াটা একটা বাড়তি গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তার জন্য কাজটাকে ভালোবাসতে হবে.


4. দায়িত্ববান ও পরিপূর্ণ সচেতন হোন:
নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে পরিপূর্ণ সচেতন হোন। যে কাজটি করবেন তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিন, তা সম্পর্কে আপনার স্বচ্ছ ধারণা তৈরী করুন।পেশাগত জ্ঞানকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর জন্য এর যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় আপনাকে আয়ত্ত করতে হবে। তাহলে আপনার পথচলা সুদৃঢ় ও সুস্থিত হবে।

৪. ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করা:
ভবিষ্যতে কী হবে তা আমরা কেউই জানি না। এমনও হতে পারে ভবিষ্যতে আপনার জন্য  ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। আবার এটার বিপরীত ও হতে পারে। ভবিষ্যতের আশায় বসে থাকলে বা সব ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিলে শুধু জীবনের মূল্যবান সময়গুলোই নষ্ট হবে কাজের কাজ কিছুই হবে না। তাই বলি এখন থেকেই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার দৌড় শুরু করে দিন।


৬.সক্রিয় থাকুন:
শুরু থেকেই সক্রিয় থাকুন।আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ পেশাজীবন। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ পেশাজীবন। তাই প্রতিদিনই আপনার কর্মস্থল নিয়ে ভাবুন, নিজের নেতিবাচক অভ্যাসগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন, নিজেকে প্রস্তুত করুন, পেশাগত নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করুন। সবসময় অজুহাত দেবেন না।

7.কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার না জানলে তা শিখে নিন ও বর্তমান জগতের সাথে তাল মেলান.
 আপনি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার না জানলে তা শিখে নিন। কারণ বর্তমান জগত কম্পিউটারের জগৎ। তাই আপনাকে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার অবশ্যই জানতে হবে। বর্তমান সময় আপনি যদি কম্পিউটার না জানেন, তাহলে আপনাকে শিক্ষিত বলা যাবে না। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি। জানতে হবে কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করে  কিভাবে টাইপ করে। কম্পিউটার ব্যবহার করে কীভাবে একটি প্রেজেন্টেশন করে। কিভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তবেই তো আপনি একটি স্মার্ট ম্যান হতে পারবেন।

 নতুন অভিজ্ঞতা আপনার দক্ষতাকে বিকশিত করবে, দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দেবে। যে কোনো কাজকে ভালোবাসুন। কাজকে উপভোগ করুন। অভিজ্ঞতাই আপনার সাফল্যের গতি নির্ধারণ করে দেবে। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *